স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ পি এম

খাবারে হেভি মেটাল: নীরবে শরীরে ঢুকে বাড়াতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি

 

খাবার আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। তবে দূষিত মাটি, পানি, বাতাস কিংবা শিল্পকারখানার বর্জ্যের মাধ্যমে কিছু ক্ষতিকর ধাতু খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকে পড়তে পারে। এসবের মধ্যে সীসা (Lead), পারদ (Mercury), ক্যাডমিয়াম (Cadmium) ও আর্সেনিক (Arsenic) অন্যতম। অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন এসব হেভি মেটালের সংস্পর্শে এলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কীভাবে খাবারে হেভি মেটাল আসে?

শিল্পকারখানার বর্জ্য, দূষিত সেচের পানি, দূষিত মাটি, খনি ও ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত উৎস থেকে হেভি মেটাল খাদ্যে প্রবেশ করতে পারে। কৃষিজমিতে দূষিত পানি বা মাটি ব্যবহার হলে ফসলেও এসব ধাতু জমা হতে পারে। আবার পানিদূষণের কারণে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর শরীরেও কিছু ধাতু জমতে পারে।

কোন খাবারে ঝুঁকি বেশি হতে পারে?

দূষিত এলাকার মাটি ও পানিতে উৎপাদিত শস্য, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে হেভি মেটালের উপস্থিতি থাকতে পারে। কিছু মাছ ও সামুদ্রিক খাবারে পারদের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বড় ও দীর্ঘজীবী শিকারি মাছ বেশি পারদ জমাতে পারে।
এ ছাড়া দূষিত পানি, মাটি বা পরিবেশের সংস্পর্শে থাকা খাদ্য এবং অনিরাপদভাবে উৎপাদন বা সংরক্ষণ করা কিছু খাবারেও দূষণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

শরীরে কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে?

হেভি মেটালের ক্ষতি নির্ভর করে কোন ধাতু, কত পরিমাণে এবং কতদিন শরীরে প্রবেশ করছে তার ওপর। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সংস্পর্শে এলে কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সীসার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পারদ বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যাডমিয়াম দীর্ঘদিন শরীরে জমলে কিডনি ও হাড়ের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। আর্সেনিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ত্বকসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শিশু ও গর্ভবতীদের সতর্কতা বেশি জরুরি

শিশুদের শরীর এখনও বিকাশমান হওয়ায় সীসাসহ কিছু বিষাক্ত ধাতুর প্রভাব তাদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের। গর্ভাবস্থায় কিছু হেভি মেটালের অতিরিক্ত সংস্পর্শ ভ্রূণের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশু ও গর্ভবতীদের খাবারের নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?

খাবার ভালোভাবে ধুয়ে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে রান্না করা জরুরি। নিরাপদ উৎসের পানি ব্যবহার করতে হবে এবং একই ধরনের মাছ বা খাবার নিয়মিত না খেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। বড় শিকারি মাছ অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মাছ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে শুধু খাবার ধুয়ে ফেললেই সব ধরনের হেভি মেটাল দূর হয়ে যায় না। কারণ কিছু ধাতু খাবারের ভেতরের টিস্যুতেও জমা থাকতে পারে। তাই খাদ্যের নিরাপদ উৎস নিশ্চিত করা এবং দূষিত এলাকা বা অনিরাপদ পানির উৎস থেকে উৎপাদিত খাবার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেভি মেটাল দূষণ অনেক সময় খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা চেহারা পরিবর্তন করে না। ফলে খাবার দেখতে স্বাভাবিক হলেও তাতে ক্ষতিকর ধাতু থাকতে পারে। খাদ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত নিয়মিত পরীক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।