স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পি এম

ত্বকের চুলকানি ও দাদে ভাট পাতার রস কতটুকু উপকারী?

ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের চুলকানি, দাদ এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বাংলাদেশে খুবই সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এ ধরনের রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে বহু বছর ধরে এসব সমস্যার ঘরোয়া সমাধান হিসেবে ভাট বা ঘেঁটু গাছের (Clerodendrum viscosum) পাতা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। লোকজ চিকিৎসকদের মতে, এই গাছের তাজা পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে লাগালে চুলকানি ও দাদের উপসর্গ কিছুটা কমতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসার বিকল্প নয় এবং ব্যবহার করার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

লোকজ চিকিৎসায় প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী, ভাট বা ঘেঁটু গাছের তাজা কচি পাতা সংগ্রহ করে প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়। এরপর শিলপাটা বা অন্য কোনো পরিষ্কার পাত্রে পাতা বেটে মসৃণ পেস্ট তৈরি করা হয়। এই পেস্ট চুলকানি, দাদ বা আক্রান্ত ত্বকের স্থানে দিনে একবার লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকের বিশ্বাস, টানা সাত দিন ব্যবহার করলে চুলকানি ও দাদের উপসর্গ কমে আসে।

ভেষজ চিকিৎসাবিদদের মতে, ভাট পাতায় কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে এবং কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। এ কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব উপকারিতা নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সব ধরনের চুলকানি বা দাদ এক ধরনের রোগ নয়। অনেক সময় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, অ্যালার্জি, একজিমা, স্ক্যাবিস বা অন্যান্য জটিল রোগের কারণেও চুলকানি হতে পারে। তাই শুধুমাত্র ভেষজ প্রলেপ ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধান পাওয়া সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কারও ত্বক সংবেদনশীল হলে ভাট পাতার পেস্ট ব্যবহারে উল্টো অ্যালার্জি, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া বা ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে শরীরের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

দাদ একটি ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। এর চিকিৎসায় সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, ব্যক্তিগত তোয়ালে ও পোশাক আলাদা ব্যবহার করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি চুলকানি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ক্ষত তৈরি হয়, পুঁজ বের হয় অথবা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

এছাড়া শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যেকোনো ভেষজ চিকিৎসা ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাট বা ঘেঁটু পাতার ব্যবহার একটি প্রচলিত লোকজ পদ্ধতি হলেও এটি যে সাত দিনের মধ্যে সব ধরনের চুলকানি বা দাদ সম্পূর্ণ নিরাময় করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এ ধরনের দাবি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, শরীর শুকনো রাখা, নিয়মিত গোসল করা, অন্যের ব্যবহৃত পোশাক বা তোয়ালে ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।