স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম

সৌন্দর্যের পাশাপাশি ক্রোটন গাছে মিলছে সম্ভাব্য কিছু ঔষধি গুণ

ছবি: সংগৃহীত

রঙিন ও আকর্ষণীয় পাতার জন্য পরিচিত ক্রোটন গাছ দীর্ঘদিন ধরেই শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ক্রোটন গণের (Croton genus) কিছু প্রজাতিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব গবেষণার ফল এখনো মানুষের চিকিৎসায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই ক্রোটনকে কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্বজুড়ে ক্রোটনের শত শত প্রজাতি রয়েছে। তবে বাসাবাড়ি ও বাগানে যেসব ক্রোটন গাছ দেখা যায়, সেগুলো মূলত শোভাবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রোটন গণের কিছু প্রজাতিতে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক যৌগ এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এ ছাড়া পরীক্ষাগারভিত্তিক কয়েকটি গবেষণায় ক্রোটনের নির্যাসে কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি দমনের সম্ভাবনাও দেখা গেছে। কিছু গবেষণায় প্রদাহ কমানোর সক্ষমতার ইঙ্গিতও মিলেছে। তবে এসব গবেষণা এখনো পরীক্ষাগার ও প্রাণী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। মানুষের ওপর পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল গবেষণা না থাকায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ক্রোটন গাছকে "অলৌকিক ব্যথানাশক" বা "বহু রোগের মহৌষধ" হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ভাইরাল তথ্য দেখে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ক্রোটন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রোটন গাছের পাতা, কাণ্ড বা সাদা রসে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে, যা সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। ভুলবশত এটি খেলে বমি, ডায়রিয়া বা বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি শরীরে লাগানো বা খাওয়া নিরাপদ নয়।

অন্যদিকে উদ্যানবিদরা বলছেন, ক্রোটনের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এর নান্দনিক সৌন্দর্য। সবুজ, হলুদ, লাল, কমলা ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে এর পাতার বৈচিত্র্য ঘর, বারান্দা ও বাগানের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। পর্যাপ্ত আলো, পরিমিত পানি এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে গাছটি দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রোটন নিয়ে গবেষণা অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে এটিকে কোনো রোগের স্বীকৃত ওষুধ বা চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে চিকিৎসক ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।