স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পি এম

রান্নার ধোঁয়া কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? গ্যাসের চুলাতেও রয়েছে কিছু ঝুঁকি

ছবি : সংগৃহীত

রান্নাঘরের ধোঁয়া ও গন্ধকে অনেকেই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখেন। কিন্তু প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রান্নাঘরের দূষিত বাতাসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শুধু কাঠ, কয়লা বা কেরোসিনের চুলা নয়,গ্যাসের চুলায় রান্নার সময়ও কিছু ক্ষতিকর দূষক তৈরি হতে পারে। তবে কঠিন জ্বালানির তুলনায় LPG ও প্রাকৃতিক গ্যাসকে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

গ্যাসের চুলায় রান্নার সময় কী তৈরি হয়?
গ্যাস পোড়ার সময় নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনোক্সাইড (CO), সূক্ষ্ম কণা ও অন্যান্য দহনজাত পদার্থ তৈরি হতে পারে। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে এসব দূষক ঘরের বাতাসে জমে যেতে পারে। পুরোনো বা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা চুলা এবং অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে গ্যাসের শিখা ঠিকমতো না জ্বললে বা রান্নাঘরে বাতাস চলাচল কম থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শরীরে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
রান্নার ধোঁয়া ও দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে চোখ ও গলা জ্বালা, কাশি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত ঘরের বাতাসে থাকার সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে গ্যাস রান্নার সঙ্গে NO₂-এর সংস্পর্শ এবং হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগের বিষয় পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে কাঠ, কয়লা, গোবর বা কেরোসিনের মতো দূষণকারী জ্বালানি দিয়ে রান্নার ধোঁয়া আরও বেশি ক্ষতিকর। এসব জ্বালানির ধোঁয়ায় সূক্ষ্ম কণা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।

শিশুদের ক্ষেত্রে কেন বেশি সতর্কতা?
শিশুদের ফুসফুস এখনও বিকাশমান। তাই ঘরের দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে তাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। রান্নার সময় শিশুদের দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরের ভেতরে না রাখা এবং রান্নাঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ভালো রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে-
রান্নার ধোঁয়া ও গ্যাসের দহনজাত দূষক থেকে সংস্পর্শ কমাতে রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। সম্ভব হলে এক্সহস্ট ফ্যান, রেঞ্জ হুড বা কার্যকর ভেন্টিলেশন ব্যবহার করা যেতে পারে। জানালা বা ভেন্টিলেশন খোলা রাখলেও ধোঁয়া ও দূষিত বাতাস বাইরে বের হতে সাহায্য করে।

গ্যাসের চুলা নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। শিখা অস্বাভাবিক হলুদ বা কমলা হলে চুলার সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি গ্যাস লিকের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্যাসের চুলা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার জ্বালানি হলেও ‘ধোঁয়া নেই’ মানেই ঘরের বাতাস পুরোপুরি দূষণমুক্ত নয়। রান্নাঘরে ভালো বায়ু চলাচল, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা চুলা এবং পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।