স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৯ পি এম

প্রতিটি শিশুর হাতে একটি গাছ: পরিবেশ রক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’

ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশদূষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা ও সময়ভিত্তিক ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

বৃহষ্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিপিইর সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডিপিইর জুলাই ২০২৬-এর মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুযায়ী কতটি গাছ লাগানো হবে, কোথায় লাগানো হবে এবং কীভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, তা উল্লেখ করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি কখন কোন পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে, সে বিষয়ে একটি ক্যালেন্ডারও প্রস্তুত করতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় শুধু বেশি সংখ্যক গাছ লাগানো নয়, গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বিদ্যালয়ভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণের পর গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও টিকে থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একটি গাছ লাগানোর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ তৈরি করা গেলে কর্মসূচিটি দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর হতে পারে।

দেশে দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জলাশয় কমে যাওয়া এবং সবুজพื้นที่ হ্রাসের কারণে পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে।

একই সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ স্থানীয় পরিবেশকে কিছুটা হলেও শীতল ও সবুজ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মসূচির গুরুত্ব অনেক। শিশুরা যদি বিদ্যালয় থেকেই গাছের প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশের ভারসাম্য, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আরও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর সঙ্গে একটি গাছের প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা নিজের লাগানো গাছের পরিচর্যা করলে গাছের প্রতি তাদের মমত্ববোধ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা নির্দিষ্ট দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের জায়গার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উপযোগী স্থান নির্বাচন, দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতির গাছ লাগানো এবং নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থা করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ভিত্তিক পরিকল্পনা ও ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার কথা।

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় একটি গাছ হয়তো একাই বড় পরিবর্তন আনতে পারে না, কিন্তু লাখ লাখ শিশুর সঙ্গে লাখ লাখ গাছের সম্পর্ক তৈরি হলে তার সম্মিলিত প্রভাব হতে পারে ব্যাপক।

তাই ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিকে শুধু বৃক্ষরোপণ প্রকল্প হিসেবে না দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়ন করাই হবে এর সবচেয়ে বড় সাফল্য।

শিশুর হাতে বইয়ের পাশাপাশি যদি একটি গাছও তুলে দেওয়া যায়, সেই শিশুই একদিন সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশের অন্যতম রক্ষক হয়ে উঠতে পারে।