স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পি এম

আয়রন, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ পালং শাক

ছবি : সংগৃহীত

 সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর শাকসবজি রাখা জরুরি। সহজলভ্য ও পরিচিত সবজি পালং শাক এ ক্ষেত্রে ভালো একটি খাবার। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, আয়রন, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ। এসব পুষ্টি উপাদান চোখের সুস্থতা, হাড়ের স্বাভাবিক গঠন, হজম ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

চোখের সুস্থতায় উপকারী

পালং শাকে রয়েছে লুটিন, জিয়াজ্যানথিন ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো উপাদান। লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির জন্য প্রয়োজনীয়।

রক্ত তৈরিতে ভূমিকা রাখে

পালং শাকে থাকা ফোলেট লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে আয়রনও রয়েছে, যা হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। তবে পালং শাকের আয়রন শরীরে তুলনামূলক কম শোষিত হয়। তাই পালং শাকের সঙ্গে লেবু, পেয়ারা বা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে শুধু পালং শাক খেয়ে রক্তস্বল্পতা দূর করা সম্ভব নয়।

হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

পালং শাকে থাকা ভিটামিন কে হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে কিছু ক্যালসিয়ামও রয়েছে। তবে পালং শাকে অক্সালেট থাকায় এর ক্যালসিয়ামের বড় অংশ শরীরে শোষিত হয় না। তাই হাড়ের সুস্থতার জন্য দুধ, দই, ছোট মাছসহ অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও খাওয়া প্রয়োজন।

হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক

পালং শাকে থাকা পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য ও স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এতে থাকা ফোলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু পালং শাকের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

হজমে সহায়তা করে

পালং শাকে রয়েছে খাদ্যআঁশ, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পালং শাক খেলে হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুবিধা হয়।

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা

পালং শাকে থাকা ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

যেভাবে খাবেন পালং শাক

পালং শাক রান্নার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। অল্প তেলে রান্না করে ডাল, মাছ বা অন্যান্য সবজির সঙ্গে খাওয়া যায়। অতিরিক্ত সময় রান্না না করাই ভালো, কারণ এতে কিছু ভিটামিনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

তবে যাঁদের কিডনিতে ক্যালসিয়াম-অক্সালেট পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের পালং শাক খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাঁরা ওয়ারফারিনের মতো রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধের ওষুধ খান, তাঁদের ভিটামিন কে-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, পালং শাক সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পালং শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়।