স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
অন্য কারও সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সুখ দেখে মনে হিংসা বা ঈর্ষা জাগা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেকেই ঈর্ষাকে নেতিবাচক আবেগ হিসেবে দেখেন। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ঈর্ষা সবসময় ক্ষতিকর নয়। কখনো কখনো এই অনুভূতি নিজের দুর্বলতা বুঝতে, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও সাহায্য করতে পারে।
ঈর্ষা সাধারণত তখন তৈরি হয়, যখন নিজের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করে মনে হয়, সেই ব্যক্তি এমন কিছু পেয়েছেন, যা নিজেরও পাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এই অনুভূতি কখনো হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করে, আবার কখনো নিজের উন্নতির জন্য কাজ করার প্রেরণা জোগায়। মূল বিষয় হলো, ঈর্ষার প্রতিক্রিয়ায় একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করছেন।
ঈর্ষার দুই রকম প্রভাব
মনোবিজ্ঞানে ঈর্ষার একটি রূপকে ক্ষতিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ ঈর্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে অন্যের সাফল্য দেখে নিজের মধ্যে হীনম্মন্যতা, বিরক্তি কিংবা সেই ব্যক্তির ক্ষতি কামনা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। অন্যের অর্জনকে ছোট করে দেখা বা তাকে ব্যর্থ হতে দেখার ইচ্ছাও এর অংশ হতে পারে। এমন অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সম্পর্কের অবনতি এবং মানসিক অশান্তি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ঈর্ষা কখনো নিজের উন্নতির প্রেরণা হিসেবেও কাজ করে। মনোবিজ্ঞানে একে অনেক সময় ইতিবাচক বা উন্নয়নমুখী ঈর্ষা বলা হয়। যেমন, সহকর্মীর পদোন্নতি দেখে কেউ যদি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, কিংবা বন্ধুর পড়াশোনার সাফল্য দেখে নিজেও নিয়মিত পড়তে শুরু করেন, তাহলে সেই তুলনা ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
কখন ঈর্ষা উপকারে আসতে পারে?
প্রথমত, ঈর্ষা নিজের প্রকৃত চাওয়া বুঝতে সাহায্য করতে পারে। অন্যের কোনো অর্জন দেখে মন খারাপ হলে নিজেকে প্রশ্ন করা যায়—আমি কি সত্যিই সেই বিষয়টি চাই, নাকি শুধু অন্যের সঙ্গে তুলনা করছি? এই প্রশ্নের উত্তর নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, ঈর্ষা নিজের ঘাটতি চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্য কারও দক্ষতা বা সাফল্য দেখে নিজের কোন জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন, তা বোঝা যায়। তবে সেই তুলনা বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। প্রত্যেকের পরিস্থিতি, সুযোগ ও সামর্থ্য এক নয়।
তৃতীয়ত, এই অনুভূতি চেষ্টা বাড়াতে উৎসাহ দিতে পারে। অন্যের অর্জনকে হুমকি হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলে নতুন দক্ষতা অর্জন, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে।
ঈর্ষা সামলাবেন যেভাবে
ঈর্ষা অনুভব করলে নিজেকে দোষারোপ না করে আবেগটির কারণ বোঝার চেষ্টা করা ভালো। অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে সব সময় তুলনা না করে নিজের আগের অবস্থার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবনের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ ভাবাও ঠিক নয়।
অন্যের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ছোট অর্জনগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির সাফল্য থেকে শেখার সুযোগ থাকলে তা গ্রহণ করুন। কিন্তু নিজেকে ছোট করা, অন্যের ক্ষতি কামনা করা কিংবা প্রতিযোগিতার চাপে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
সব মিলিয়ে, ঈর্ষা একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। এটি কখনো নেতিবাচক চিন্তা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়াতে পারে, আবার কখনো নিজের উন্নতির অনুপ্রেরণা হতে পারে। তাই ঈর্ষাকে পুরোপুরি দমন করার চেয়ে এর কারণ বোঝা এবং অনুভূতিটিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।