স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
শরীরচর্চা, পেশির শক্তি বৃদ্ধি কিংবা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর আলোচনায় ক্রিয়েটিনের নাম প্রায়ই শোনা যায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের মধ্যে ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বেশ পরিচিত। তবে ক্রিয়েটিন আসলে কী, শরীরে এটি কীভাবে কাজ করে এবং পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যে এর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ক্রিয়েটিন হলো শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি পদার্থ, যা মূলত পেশিতে জমা থাকে। শরীরের কিছু ক্রিয়েটিন যকৃৎ, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হয়। এ ছাড়া মাছ ও মাংসের মতো খাবার থেকেও কিছু ক্রিয়েটিন পাওয়া যায়। শরীরের কোষে দ্রুত শক্তি সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শরীর যখন ভারী কোনো কাজ করে, দ্রুত দৌড়ায় কিংবা ওজন তুলে ব্যায়াম করে, তখন পেশির দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হয়। এ সময় ক্রিয়েটিন থেকে তৈরি ফসফোক্রিয়েটিন কোষে অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট বা এটিপি নামের শক্তির উৎস দ্রুত পুনরায় তৈরি করতে সাহায্য করে।
এ কারণে স্বল্প সময়ের উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রমে পেশির কর্মক্ষমতা বাড়াতে ক্রিয়েটিন সহায়ক হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের সঙ্গে ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করলে পেশির শক্তি ও ব্যায়ামের সক্ষমতা বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যায়ামের সঙ্গে এটি পেশির আকার বাড়াতেও সাহায্য করে।
তবে শুধু ক্রিয়েটিন খেলেই পেশি বড় হয়ে যায় না। এর সুফল পেতে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত প্রোটিন, সুষম খাবার ও বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ।
পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। শক্তিশালী পেশি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চলাফেরায় সহায়তা করে। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিয়েটিন নিয়ে কিছু গবেষণায় দেখা হয়েছে, এটি ব্যায়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পেশির শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে। তবে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ানো বা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ক্রিয়েটিনের সরাসরি উপকার এখনো নিশ্চিত নয়। তাই হাড় মজবুত করার জন্য শুধু ক্রিয়েটিনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
হাড়ের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, নিয়মিত ওজন বহনকারী ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট সাধারণত সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি সম্পূরক। তবে এটি গ্রহণের আগে ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কিছু মানুষের শরীরে পানি ধরে রাখার কারণে ওজন সামান্য বাড়তে পারে। কারও কারও পেটের অস্বস্তিও হতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের কিডনির রোগ রয়েছে, যাঁরা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করেন কিংবা যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা আছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। ক্রিয়েটিন ব্যবহারের কারণে রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও বাড়তে পারে, যা কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়নের পরীক্ষার ফল ব্যাখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মাছ ও মাংসে প্রাকৃতিকভাবে ক্রিয়েটিন পাওয়া যায়। তবে খাবার থেকে পাওয়া ক্রিয়েটিনের পরিমাণ খাদ্যের ধরন ও গ্রহণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। নিরামিষভোজীদের শরীরে ক্রিয়েটিনের সঞ্চয় তুলনামূলক কম হতে পারে, যদিও শরীর নিজেও এটি তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, ক্রিয়েটিন পেশির দ্রুত শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ব্যায়ামের সঙ্গে ব্যবহার করলে পেশির শক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ানো কিংবা হাড়ের রোগ প্রতিরোধে এর উপকার এখনো নিশ্চিত নয়। তাই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বদলে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।