স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পি এম

সন্তান জন্মের পর মায়ের হাঁটু ও হাতের গিঁটে ব্যথার কারণ কী?

ছবি : সংগৃহীত

সন্তান জন্মের পর অনেক মায়ের হাঁটু, হাতের আঙুলের গিঁট, কবজি ও শরীরের অন্যান্য জোড়ায় ব্যথা দেখা দেয়। নবজাতকের যত্ন নেওয়া, ঘুমের অভাব কিংবা শারীরিক ক্লান্তিকে অনেকে এর কারণ মনে করেন। তবে প্রসব-পরবর্তী শারীরিক পরিবর্তন, শিশুকে কোলে নেওয়ার সময় জোড়ায় অতিরিক্ত চাপ, পেশির দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতি বা প্রদাহজনিত সমস্যার কারণেও এমন ব্যথা হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। রিল্যাক্সিনসহ কিছু হরমোন লিগামেন্ট ও সংযোজক টিস্যুর নমনীয়তায় ভূমিকা রাখে। সন্তান জন্মের পর শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। এ সময় পেশি ও জোড়ায় অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। তবে প্রসবের পর সব ধরনের গিঁটের ব্যথার কারণ হরমোনের পরিবর্তন নয়।

শিশুর যত্ন নেওয়ার কারণে বাড়তে পারে ব্যথা

সন্তান জন্মের পর মাকে দীর্ঘ সময় শিশুকে কোলে নিতে হয়, বুকের দুধ খাওয়াতে হয় এবং বারবার শিশুকে তোলা-নামানো করতে হয়। এসব কাজের সময় হাতের কবজি ও আঙুলের ওপর চাপ পড়ে। বিশেষ করে শিশুকে কোলে নেওয়ার সময় কবজি বাঁকিয়ে রাখলে ব্যথা বাড়তে পারে। কিছু মায়ের ক্ষেত্রে কবজির টেন্ডনে প্রদাহও দেখা দেয়।

অন্যদিকে, গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি, পেশির দুর্বলতা এবং প্রসবের পর শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে হাঁটুতে চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবও ব্যথা বাড়াতে পারে।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি কি দায়ী?

ভিটামিন ডি হাড় ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর ঘাটতি থাকলে হাড়ে ব্যথা ও পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। ক্যালসিয়ামও হাড়ের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়। তবে শুধু হাঁটু বা হাতের গিঁটে ব্যথা হলেই ভিটামিন ডি কিংবা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া প্রসব-পরবর্তী সময়ে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাতের ছোট ছোট গিঁটে ব্যথা ও ফোলা, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘক্ষণ গিঁট শক্ত হয়ে থাকার মতো লক্ষণ থাকলে প্রদাহজনিত বাতের সমস্যাও বিবেচনায় নিতে হয়।

ব্যথা কমাতে কী করবেন?

প্রসবের পর গিঁটের ব্যথা কমাতে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পিঠ ও হাতের নিচে বালিশ ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুকে তোলার সময় কবজির ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে হাতের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। হাঁটু বা কবজিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা গরম সেঁক দিলে কিছু ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যায়।

পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন, ক্যালসিয়াম বা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা ঠিক নয়।

ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, ক্রমে বাড়তে থাকলে, গিঁট ফুলে গেলে কিংবা সকালে দীর্ঘ সময় গিঁট শক্ত হয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। গিঁট লাল ও গরম হওয়ার সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীরকে সুস্থ হতে সময় দিতে হয়। তবে হাঁটু ও হাতের গিঁটের ব্যথাকে শুধু প্রসব-পরবর্তী স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। ব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।