স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পি এম

ভালো চিকিৎসার সঙ্গে রোগীর আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের আহ্বান স্বাস্থ্য ডিজির

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ভালো চিকিৎসা ও সঠিক ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি রোগীর আস্থা অর্জনে চিকিৎসকদের আরও মানবিক, সহানুভূতিশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেছেন, একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে শুধু শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা নিতে আসেন না; তিনি চিকিৎসকের কাছে আশা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাসও খোঁজেন। তাই চিকিৎসার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে ভালো আচরণ, ধৈর্য ধরে কথা শোনা এবং যথাযথ সময় দেওয়া চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শুক্রবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির আয়োজনে জাতীয় সাধারণ সভা (এনজিএ) ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ওয়ান প্লেজ, ওয়ান বন্ড: ডক্টরস রাইটস অ্যাবাভ অল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ৯৫০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী, তরুণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবী অংশ নেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রোগীদের অন্যতম অভিযোগ হলো, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা তাদের প্রয়োজনীয় সময় দেন না এবং প্রত্যাশিত আন্তরিকতা বা আচরণও পাওয়া যায় না। রোগীদের এই অসন্তোষ কমাতে চিকিৎসকদের আরও মনোযোগী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, ধৈর্য ধরে রোগীর সমস্যার কথা শোনা, চিকিৎসার সময় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং আন্তরিক আচরণ করার মাধ্যমে রোগীদের মধ্যে চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা বাড়ানো সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আরও বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জটিল রোগীদের ধাপে ধাপে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায় হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

স্বাস্থ্য ডিজি বলেন, একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। রোগীর রোগের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো গেলে চিকিৎসাসেবার মান বাড়বে এবং বড় হাসপাতালগুলোর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে দেশে গবেষণা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদেশি ও আঞ্চলিক তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশের রোগের প্রকোপ, বিস্তার, কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের গবেষণায় এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও হেড অব অফিস ডা. সুসান ভাইজে বলেন, তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল দক্ষতা, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কেও তরুণদের আরও বেশি জানার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ডা. আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম, শান্তি ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রধান পরামর্শক ডা. পারভীন শহীদা আক্তার এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ডা. নাসার উ. আহমেদসহ চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।