স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পি এম

কর্মস্থলে সাড়ে তিন মাস অনুপস্থিত, ১৫ স্থানে চেম্বার-সরকারি চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের মধ্যেই কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের জানিয়েছেন, গত ১৯ মে’র পর থেকে ডা. শামসুল ইসলাম খান কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনায় তাকে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। অনুপস্থিতির কারণে তার বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে একই সময়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তিনি রোগী দেখেছেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজার শহর ছাড়াও মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রাম মিলিয়ে অন্তত ১৫টি স্থানে তার চেম্বারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব স্থানে রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার কিংবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়ার তথ্যও জানা গেছে। 

এ ঘটনায় সরকারি চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের মধ্যে সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডা. শামসুল ইসলাম খান অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি অফিস সময়ের বাইরে চেম্বারে রোগী দেখেন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় যান। বয়স ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে দিনাজপুরে চাকরি করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে বদলির চেষ্টা করছেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন সম্ভব না হলে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

যদিও এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশালীন আচরণের কারণে বদলি থেকে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছিল। দিনাজপুরে কর্মরত থাকার পরও তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।