স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের (নিনস) নিউরোসার্জারি বিভাগের সকল রেসিডেন্ট ও এফসিপিএস ট্রেইনি চিকিৎসকদের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ কোনো মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া যাবে না বলে জরুরি নোটিশে জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও এফসিপিএস (নিউরোসার্জারি) কোর্স-কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের কোনো রেসিডেন্ট কিংবা এফসিপিএস ট্রেইনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন না। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নির্দেশনা অমান্য করে কেউ রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের দায়িত্ব বহন করবে না বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে কোন প্রেক্ষাপটে নিনস কর্তৃপক্ষ এ ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে, তা না জেনে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তিনি বলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতার জায়গা থেকে একজন ব্যক্তি মতামত প্রকাশ করতে পারেন, যদি তা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয়। তবে কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে সরকারি কর্মচারীদের সরকারদলীয় পক্ষেও রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করতে পারেন এবং ভোটের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারেন। তবে সরকারি কর্মস্থলে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের কোর্স-কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।