স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়লে শ্বাসকষ্ট বা কাশির মতো সমস্যা হওয়াই শুধু নয়, দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।বিশেষ করে আগুনের ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণা PM2.5 নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ এমন বাতাসে শ্বাস নেয়, যেখানে কোনো না কোনো দূষকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। বনাঞ্চলে আগুন লাগলে তৈরি হওয়া ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এতে বিপজ্জনক সূক্ষ্ম কণা তৈরি হয়।
PM2.5 কী?
PM2.5 হলো ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়েও ছোট বায়ুদূষণ কণা। মানুষের চুলের প্রস্থের তুলনায় এগুলো প্রায় ৩০ গুণ ছোট। ফলে সহজেই শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এসব কণা রক্তপ্রবাহেও প্রবেশ করতে পারে এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
বনআগুনের ধোঁয়ায় থাকা কণাগুলো ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধকারী কোষের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অন্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এবং যেসব শিশুর ফুসফুস এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
তবে দূষিত বাতাসের প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পর্কের পেছনে আরও অনেক সামাজিক ও জীবনযাপন-সংক্রান্ত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
দূষিত বাতাস শরীরের বিপাকক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। PM2.5-এর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সঙ্গে স্থূলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
এমনকি ঘ্রাণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু গবেষণায় বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের সঙ্গে ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, দূষণের সূক্ষ্ম কণা নাক ও মস্তিষ্কের ঘ্রাণ-সংক্রান্ত স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কীভাবে নিজেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখবেন?
বাইরে ধোঁয়া বা দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া কমানো, ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে বাইরের দূষিত বাতাস ঘরে ঢোকা কমানো যেতে পারে। বাইরে যেতে হলে ভালোভাবে ফিট হওয়া উপযুক্ত মাস্ক বা রেসপিরেটর ব্যবহার করাও সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগীদের দূষিত বাতাসে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, তীব্র কাশি বা অন্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বায়ুদূষণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও বনআগুনের মতো দূষণের উৎস কমানোই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ বাতাস নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।