স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্য উৎস হিসেবে ডিম দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় খাদ্য। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকে। যদিও ডিম খাওয়া ও রক্তের কোলেস্টেরলের সম্পর্ক ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবু যাদের আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত বলে পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন।
দ্বিতীয়ত, হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ক্যালোরি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে নিয়মিত অতিরিক্ত ডিম গ্রহণ করলে কিছু মানুষের হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তাই হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ডিম খাওয়ার পর কারও কারও শরীরে চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, বমিভাব কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
চতুর্থত, অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার পর কিছু মানুষের হজমসংক্রান্ত অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমক্ষমতা দুর্বল বা নির্দিষ্ট খাবারে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও কোনো একক খাবারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কর্মতৎপরতা এবং বিদ্যমান রোগের ওপর নির্ভর করে ডিম খাওয়ার উপযুক্ত পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
তাই নিয়মিত ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।