স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পি এম

ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি: অবহেলা ডেকে আনতে পারে পঙ্গুত্ব ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি

ছবি : সংগৃহীত

 

দেহে রক্তে ইউরিক এসিডের আধিক্য বা 'হাইপারইউরিসেমিয়া' বর্তমানে একটি সুপরিচিত কিন্তু চরম উপেক্ষিত স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

প্রাথমিক অবস্থায় উপসর্গহীন থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এই অবহেলা পায়ের গেঁটে বাত (গাউট), জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি এবং কিডনিতে পাথরের মতো জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।

​ইউরিক এসিড কী এবং কেন বাড়ে?

​​​​​​শরীরে পিউরিন নামক রাসায়নিক উপাদান ভাঙার পর উপজাত হিসেবে ইউরিক এসিড তৈরি হয়। সাধারণ অবস্থায় এটি রক্তের মাধ্যমে কিডনিতে গিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। তবে উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার গ্রহণ, প্রোটিনের আধিক্য কিংবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে এর মাত্রা বাড়তে থাকে।

​জয়েন্টে স্ফটিক ও তীব্র যন্ত্রণা

রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা ধারালো সূঁচের মতো ছোট ছোট ক্রিস্টাল বা স্ফটিকে রূপান্তরিত হয়। এগুলো সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি, হাঁটু এবং হাতের বিভিন্ন জয়েন্টে জমা হতে থাকে। চিকিৎসকরা জানান, এই ক্রিস্টাল জমে গেলে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা, আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে ফুলে যাওয়া এবং অসহ্য জ্বালা-পোড়া শুরু হয়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'গাউট' (Gout) নামে পরিচিত।

​যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন:

​▪️পায়ের বুড়ো আঙুল বা জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ব্যথা ও ফোলা ভাব।
​▪️হাত-পায়ের গিট লাল হয়ে যাওয়া এবং স্পর্শ করলে মাত্রাতিরিক্ত গরম অনুভব হওয়া।
​▪️দীর্ঘদিন ধরে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা এবং নাড়াচাড়ায় কষ্ট হওয়া।
​▪️প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তিত হওয়া বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথা (যা কিডনিতে পাথরের লক্ষণ হতে পারে)।

​প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের পরামর্শ:

​▪️খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: লাল মাংস (গরু/খাসি), কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, মসুর ডাল, পালং শাক, মিষ্টি পানীয় এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করতে হবে।
​▪️পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করতে হবে, যা ইউরিক এসিড প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে সাহায্য করে।
​▪️ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত শারীরিক ওজন কমিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করা জরুরি।

​স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ইউরিক এসিডের মাত্রা নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে এই রোগের জটিলতা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব।