স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে রোগটি দীর্ঘদিন অজান্তেই থাকতে পারে। তবে কিছু মানুষের শরীরে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি।
বারবার প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। এতে প্রস্রাবের পরিমাণ ও ঘনত্ব বাড়তে পারে।
এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া দেখা দিতে পারে। বারবার প্রস্রাবের কারণে শরীর থেকে তরল কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বেশি পানি পিপাসা লাগতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা। রক্তে গ্লুকোজ থাকলেও ইনসুলিনের ঘাটতি বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করার কারণে শরীর কোষে প্রয়োজনীয় শক্তি হিসেবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে ক্ষুধা বাড়তে পারে।
কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, বিশেষ করে খাবারের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকার পরও ওজন কমতে থাকা, ডায়াবেটিসের একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
ডায়াবেটিসে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়াও হতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ওঠানামার কারণে চোখের লেন্সে সাময়িক পরিবর্তন হয়ে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া কাটা-ছেঁড়া বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, বারবার সংক্রমণ হওয়া, বিশেষ করে ত্বক, মূত্রনালি বা যৌনাঙ্গে সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ শুধু ডায়াবেটিসের জন্যই হয়—এমন নয়; অন্যান্য রোগেও এগুলো হতে পারে।
কখন পরীক্ষা করবেন?
উপরের এক বা একাধিক লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে ডায়াবেটিস হয়েছে ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা উচিত। সাধারণত ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ, HbA1c এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়।
বিশেষ করে যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রম কম, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা অন্যান্য ঝুঁকি রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন, ডায়াবেটিসের শুরুতে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তাই ঝুঁকি থাকলে শুধু উপসর্গের অপেক্ষা না করে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করাই সচেতনতার সবচেয়ে ভালো উপায়।