স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ পি এম

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ কেন জরুরি? মা ও শিশুর সুস্থতায় অবহেলা নয়

ছবি : সংগৃহীত

গর্ভাবস্থায় মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত চেকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে কোনো সমস্যা বোঝা না গেলেও এ সময়ে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা বা ডায়াবেটিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় অন্তত ৮ বার গর্ভকালীন চেকআপ করা উচিত। প্রথম চেকআপ গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে করা ভালো। এরপর গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে চেকআপ করতে হবে। গর্ভাবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ঘন ঘন পরীক্ষা লাগতে পারে।

 

চেকআপে কী কী দেখা হয়?

​​​​​​
মায়ের রক্তচাপ ও ওজন: গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা শনাক্ত করা যায়।

রক্তস্বল্পতা: রক্ত পরীক্ষা করে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দেখা হয় এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মায়ের ডায়াবেটিস আছে কি না: গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আগেই পরীক্ষা করতে পারেন।

শিশুর বৃদ্ধি ও অবস্থান: গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি, হৃদস্পন্দন ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হতে পারে।

রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা: সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে এসব পরীক্ষা করা হতে পারে।

টিকা ও পুষ্টি: প্রয়োজনীয় টিকা, আয়রন-ফলিক অ্যাসিড, খাবার ও পুষ্টি সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যায়।

কেন অবহেলা করা উচিত নয়?
নিয়মিত চেকআপ শুধু রোগ শনাক্ত করার জন্য নয়; মা ও শিশুর সুস্থতা পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য জটিলতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ প্রসবের প্রস্তুতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগের গর্ভাবস্থায় জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ আরও জরুরি।

মনে রাখুন: গর্ভাবস্থায় যোনিপথে রক্তপাত বা পানি পড়া, তীব্র পেটব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ মুখ-হাত-পা ফুলে যাওয়া বা শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে নির্ধারিত চেকআপের তারিখের অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।