স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ পি এম

হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, সচেতনতায় রুখুন এডিস মশা

ছবি : সংগৃহীত

দেশে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে সচেতন হতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫ জন। এ বছর একদিনে নতুন রোগী শনাক্তের এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে এবং এ বছরের ডেঙ্গু মৌসুম অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনের বেলাতেও কামড়ায় এবং বাড়ি ও আশপাশে অল্প পরিমাণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।

বাড়িতেই যেভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন

​​​​​
জমে থাকা পানি ফেলে দিন:
ফুলের টব, টবের নিচের প্লেট, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত বোতল, পুরোনো টায়ার, কৌটা কিংবা যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত ফেলে দিয়ে পাত্রটি পরিষ্কার করুন।

পানির পাত্র ঢেকে রাখুন:
বাড়িতে সংরক্ষণ করা পানি অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। পাত্র নিয়মিত খালি করে পরিষ্কার করুন। শুধু পানি ফেলে দেওয়া নয়, পাত্রের ভেতর ও গায়ে মশার ডিম বা লার্ভা আছে কি না সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার  করুন:
ছাদ, বারান্দা, বাগান, নির্মাণাধীন জায়গা ও বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না খুঁজে দেখুন। বৃষ্টির পর বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন।

মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকুন:
এডিস মশা দিনের বেলাতেও সক্রিয় থাকে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ব্যবহার করুন, শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখুন এবং দরজা-জানালায় মশার জালি ব্যবহার করুন।

জ্বর হলেই অবহেলা নয়
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ। জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মতো সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জ্বর হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বাড়ি, কর্মস্থল, স্কুল, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের পরিবেশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে এডিস মশার প্রজননস্থল কমানো সম্ভব।
ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকার মানুষের সম্মিলিত সচেতনতাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার এই সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় দিয়ে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরীক্ষা করুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।

মনে রাখুন, এডিস মশার একটি প্রজননস্থল ধ্বংস করাও ডেঙ্গু প্রতিরোধের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।