স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৫ পি এম

শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সময় যে নিয়মগুলো মানা জরুরি

ছবি : সংগৃহীত

শিশুর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক এমন ওষুধ, যা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে দেওয়া উচিত নয়। সর্দি-কাশি, ফ্লু বা বেশিরভাগ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে শিশুকে সঠিক সময়ে ও সঠিক মাত্রায় খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কখন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন?

চিকিৎসক যে সময়সূচি দিয়েছেন, প্রতিদিন সম্ভব হলে একই সময়ে ওষুধ খাওয়ানো ভালো। ছবিতে উদাহরণ হিসেবে,

দিনে ২ বার:  সকাল ৮টা ও রাত ৮টা
দিনে ৩ বার:  সকাল ৮টা, বিকেল ৪টা ও রাত ১২টা
দিনে ৪ বার:  সকাল ৬টা, দুপুর ১২টা, সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ১২টা।

তবে এগুলো সাধারণ উদাহরণ। শিশুর অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে কোন ওষুধ কত ঘণ্টা পরপর দিতে হবে, তা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিক করতে হবে। নিজের মতো করে সময় পরিবর্তন করা উচিত নয়।
ওষুধ খাওয়ানোর সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন

১. ডোজ মেপে দিন

সিরাপ বা তরল অ্যান্টিবায়োটিক হলে সাধারণ চামচের পরিবর্তে ওষুধের সঙ্গে দেওয়া মাপার চামচ, কাপ বা ওরাল সিরিঞ্জ দিয়ে নির্দিষ্ট ডোজ মেপে দিন।

২. সাসপেনশন হলে বোতল ঝাঁকিয়ে নিন

যে ওষুধ ব্যবহারের আগে ঝাঁকাতে বলা হয়, সেটি ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে তারপর প্রতিবার ডোজ মাপতে হবে।

৩. পানি বা তরল খাবার দিন

ওষুধ খাওয়ানোর আগে-পরে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাবারের সঙ্গে, খাবারের পরে বা খালি পেটে দিতে হবে,এটি ওষুধভেদে আলাদা। তাই চিকিৎসক বা ওষুধের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

৪. দুধ বা খাবারের সঙ্গে মেশানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা

কিছু ওষুধ অল্প খাবার বা দুধের সঙ্গে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সব অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পুরো বোতল দুধ বা খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

৫. শিশু তিতা স্বাদ অনুভব করলে

ওষুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে পানি বা দুধ দেওয়া যেতে পারে, যদি সেই ওষুধের ক্ষেত্রে তা নিষেধ না থাকে।

ডোজ মিস হলে কী করবেন?

কোনো ডোজ ভুলে গেলে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া যায়, তবে যদি পরবর্তী ডোজ দেওয়ার সময় খুব কাছাকাছি হয়ে যায়, সাধারণত বাদ পড়া ডোজটি না দিয়ে পরবর্তী নির্ধারিত ডোজ দেওয়া হয়। একসঙ্গে দুই ডোজ দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

শিশুর অবস্থা ভালো হলেও অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করবেন না

চিকিৎসক যতদিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছেন, ততদিনের কোর্স ও নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। শিশুর উপসর্গ কমে গেলেই নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা, ডোজ কমানো বা বাড়ানো ঠিক নয়। একইভাবে আগের অসুস্থতার জন্য রাখা অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক পরবর্তী সময়ে নিজের মতো করে দেওয়া উচিত নয়। 

যে ভুলগুলো একদম করবেন না

▪️চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না।
▪️অন্য শিশুর প্রেসক্রাইব করা অ্যান্টিবায়োটিক নিজের শিশুকে দেবেন না।
▪️আগের অসুস্থতার জন্য বেঁচে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।
▪️প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ▪️কিনে নিজে থেকে শুরু করবেন না।
▪️একই রোগের জন্য বারবার নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।
▪️শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পরিবর্তন করবেন না।

অ্যান্টিবায়োটিকের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে র‍্যাশ, বমিভাব, মাথা ঘোরা ও ডায়রিয়া থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জিও হতে পারে।

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?

শিশুর অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন,

▪️শিশুর  অবস্থার অবনতি হলে
▪️শ্বাসকষ্ট, হাঁপ ধরা বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে
▪️বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা বা ডায়রিয়া হলে
▪️শিশু খাওয়া-দাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিলে
▪️শরীরে র‍্যাশ, চুলকানি বা ফোলা দেখা দিলে
▪️অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর পরও শিশুর অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে
▪️মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে

শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুরুতরও হতে পারে; তাই অস্বাভাবিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। 


অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক রোগে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন না থাকলে এটি কোনো উপকার করে না, বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাই শিশুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, নির্ধারিত ডোজ ও নির্ধারিত সময় মেনে খাওয়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ।