স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পি এম

শিশুর ডায়রিয়া হলে কী করবেন, কখন হাসপাতালে নিতে হবে?

ছবি : সংগৃহীত

শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। বারবার পাতলা পায়খানার কারণে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুর পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়রিয়া হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

খাবার স্যালাইন দিন

ডায়রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হলো পানিশূন্যতা ঠেকানো। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর শিশুকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স অনুযায়ী অল্প অল্প করে বারবার স্যালাইন দিতে হবে। বমি হলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আবার ধীরে ধীরে খাওয়াতে হবে।

স্যালাইন তৈরির পর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে এবং তৈরি করা স্যালাইন সাধারণত ১২ ঘণ্টার মধ্যে (ঢেকে ও স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে) ব্যবহার করা উচিত।
বুকের দুধ বন্ধ করবেন না
শিশু বুকের দুধ খেলে ডায়রিয়ার সময়ও নিয়মিত ও ঘন ঘন বুকের দুধ দিতে হবে। ডায়রিয়ার কারণে বুকের দুধ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।

স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যান

শিশু যদি শক্ত খাবার খায়, তাহলে ডায়রিয়ার সময়ও বয়স উপযোগী স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে।সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার অল্প অল্প করে বারবার দেওয়া যেতে পারে। শুধু পানি বা শুধু তরল খাবারের ওপর নির্ভর না করে শিশুর পুষ্টি বজায় রাখা জরুরি।

জিঙ্ক দেওয়া যেতে পারে

শিশুর ডায়রিয়ায় জিঙ্ক উপকারী হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া হয়। শিশুর বয়স ও অবস্থার ভিত্তিতে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

নিজের থেকে অ্যান্টিবায়োটিক নয়

সব ধরনের ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা পায়খানা বন্ধ করার ওষুধ শিশুকে দেওয়া উচিত নয়।

পানিশূন্যতার লক্ষণ খেয়াল করুন

শিশুর চোখ বসে যাওয়া, মুখ-জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, খুব কম প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত দুর্বল বা নিস্তেজ হয়ে পড়া, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা কিংবা পানি/স্যালাইন খেতে না পারা—এসব পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?

শিশু স্যালাইন বা কোনো তরল খেতে না পারলে, বারবার বমি হলে, পায়খানায় রক্ত দেখা গেলে, খুব নিস্তেজ বা অচেতনভাব দেখা দিলে, খিঁচুনি হলে, প্রস্রাব অনেক কমে গেলে বা পানিশূন্যতার গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। খুব ছোট শিশু, বিশেষ করে নবজাতকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মনে রাখুন: ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা। তাই পায়খানা শুরু হওয়ার পর থেকেই খাবার স্যালাইন ও পর্যাপ্ত তরল দেওয়ার পাশাপাশি শিশুর খাবার ও বুকের দুধ চালু রাখা গুরুত্বপূর্ণ।