স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
কুকুরের কামড় বা আঁচড়কে অনেকেই ছোটখাটো ক্ষত হিসেবে দেখেন। কিন্তু কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে সামান্য আঁচড় বা কামড় থেকেও প্রাণঘাতী জলাতঙ্কের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কুকুর কামড়ানোর পর দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমেই ক্ষত স্থান পরিষ্কার করুন
কুকুর কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রচুর প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ক্ষতস্থানে থাকা ভাইরাসের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।
ক্ষতে কিছু লাগাবেন না
ক্ষতস্থানে মরিচ, হলুদ, চুন, তেল, মাটি বা কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগানো উচিত নয়। ক্ষত পোড়ানো বা শক্ত করে ব্যান্ডেজ করাও ঠিক নয়।
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ক্ষত ধোয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। চিকিৎসক ক্ষতের ধরন ও কামড়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জলাতঙ্কের টিকা এবং প্রয়োজন হলে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
টিকা নিতে দেরি করবেন না
কুকুরের কামড়ের পর কুকুরটি দেখতে সুস্থ মনে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে টিকা বাদ দেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে। বিশেষ করে কুকুরটি অচেনা, পালিয়ে গেছে, অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া আরও জরুরি।
টিটেনাসের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
কামড়ের ক্ষত গভীর বা দূষিত হলে চিকিৎসক টিটেনাসের টিকা বা অন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করতে পারেন।
মনে রাখুন: জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর রোগটি প্রায় সবসময়ই প্রাণঘাতী। তবে কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত ক্ষত ধোয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কুকুর কামড়ালে ‘ক্ষত ছোট’ ভেবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।