স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
শিশুর জন্মের পর থেকেই তার সুস্থতা ও নিরাপদ বেড়ে ওঠার জন্য টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংক্রামক ও গুরুতর রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তাই নির্ধারিত বয়স ও সময় অনুযায়ী শিশুকে প্রয়োজনীয় সব টিকা দেওয়া জরুরি।
টিকা শিশুর শরীরকে নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে আগাম প্রস্তুত করে। ফলে ভবিষ্যতে ওই জীবাণুর সংস্পর্শে এলে শরীর দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। টিকার মাধ্যমে হাম, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি, নিউমোকক্কাল রোগসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
টিকা না দিলে কী হতে পারে?
শিশুর নির্ধারিত টিকা বাদ পড়লে কিছু সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এসব রোগ কখনো কখনো নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, পক্ষাঘাতসহ গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। কিছু রোগ প্রাণঘাতীও হতে পারে।
শুধু শিশুই নয়, নিয়মিত টিকাদান সমাজের অন্য মানুষকেও সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। বেশি সংখ্যক মানুষ টিকার মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যায়। এতে নবজাতক বা যাদের কিছু রোগের কারণে টিকা নেওয়া সম্ভব নয়, তারাও পরোক্ষভাবে সুরক্ষা পেতে পারে।
টিকা কি নিরাপদ?
টিকা দেওয়ার পর ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, সামান্য ফোলা বা হালকা জ্বরের মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এগুলো সাধারণত সাময়িক। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল। তবে কোনো টিকার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সময়মতো টিকা দেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতিটি টিকা নির্দিষ্ট বয়সে দেওয়ার কারণ রয়েছে। শিশুর বয়স অনুযায়ী তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করেই টিকার সময়সূচি তৈরি করা হয়। তাই একটি টিকা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া না হলে যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নেওয়া উচিত।
অভিভাবকদের উচিত শিশুর টিকা কার্ড সংরক্ষণ করা এবং নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করা। সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় যেসব টিকা দেওয়া হয়, সেগুলো সম্পর্কে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে সঠিক তথ্য নেওয়া যেতে পারে।
মনে রাখবেন- সময়মতো টিকা দেওয়া শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।