স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক সময় শহরের তুলনায় বেশি হতে পারে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি, অপুষ্টি, মশাবাহিত রোগ, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক ও পুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা না হলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
যেসব রোগ বেশি দেখা যায়
ডায়রিয়া ও আমাশয়:
দূষিত পানি ও খাবার, অপরিষ্কার হাত এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের কারণে শিশুদের ডায়রিয়া হতে পারে। বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা এর প্রধান লক্ষণ। ডায়রিয়ার সময় পর্যাপ্ত তরল ও ওআরএস দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ:
সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে নিউমোনিয়া পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুক দেবে যাওয়া বা শিশুর অস্বাভাবিক নিস্তেজতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতা:
পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবারের অভাবে শিশুদের অপুষ্টি ও আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে। বয়স অনুযায়ী ওজন-উচ্চতা না বাড়া, দুর্বলতা, ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া ও খাবারে অনীহা এর কিছু লক্ষণ।
জ্বর ও মশাবাহিত রোগ:
বর্ষাকাল ও মশার উপদ্রবের সময় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কৃমির সংক্রমণ:
মাটিতে খালি পায়ে হাঁটা, অপরিষ্কার হাত বা অপরিষ্কার খাবার-পানির মাধ্যমে শিশুদের কৃমি হতে পারে। পেটে ব্যথা, ক্ষুধার পরিবর্তন, দুর্বলতা ও ওজন না বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চর্মরোগ:
অপরিষ্কার পরিবেশ, অতিরিক্ত ঘাম, পানি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ঘাটতির কারণে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। চুলকানি, লালচে দাগ, ফুসকুড়ি বা ঘা দেখা দিলে কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন।
রোগ প্রতিরোধে যা জরুরি
শিশুকে নিরাপদ পানি পান করানো, খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো এবং খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ানো জরুরি। শিশুর টিকা সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মশার বংশবিস্তার রোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা, পানিশূন্যতার লক্ষণ, খেতে না পারা, খিঁচুনি কিংবা অস্বাভাবিক নিস্তেজতা দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।