স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পি এম

শিশুর অপুষ্টির কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, যা জানা জরুরি

ছবি : সংগৃহীত

শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুর শরীরে দেখা দিতে পারে অপুষ্টি। শুধু খাবারের অভাব নয়, নানা ধরনের অসুস্থতা, সংক্রমণ ও ভুল খাদ্যাভ্যাসও শিশুর অপুষ্টির অন্যতম কারণ হতে পারে।

শিশুর অপুষ্টির প্রধান কারণ

পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাব: শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ না পেলে অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।

একঘেয়ে খাবার: শুধু ভাত, রুটি বা কয়েক ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর করলে শিশুর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে।

বুকের দুধ পরিপূরক খাবারে অনিয়ম: শিশুর প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ এবং এরপর বুকের দুধের পাশাপাশি বয়স উপযোগী পরিপূরক খাবার প্রয়োজন। সঠিক সময়ে বা সঠিকভাবে এসব খাবার না দিলে অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বারবার অসুস্থতা: ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে শিশুর খাবার গ্রহণ কমে যেতে পারে এবং শরীরের পুষ্টির চাহিদাও বেড়ে যেতে পারে।

দূষিত পানি ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি: অনিরাপদ পানি, অপরিষ্কার খাবার ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত করতে পারে, যা অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়।

খাবার খেতে অনীহা: দীর্ঘদিন খাবারে অনীহা বা খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

অপুষ্টি প্রতিরোধে করণীয়
শিশুকে অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে ছোটবেলা থেকেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

▪️জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ দেওয়ার চেষ্টা করুন।

▪️৬ মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী পরিপূরক খাবার শুরু করুন।

▪️শিশুর খাবারে বৈচিত্র্য রাখুন। ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ বা দুধজাত খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি ও ফল দিন।

▪️শিশুর বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে ও নিয়মিত খাবার দিন।

▪️খাবার তৈরি ও খাওয়ানোর আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

▪️নিরাপদ পানি পান করান এবং খাবার পরিষ্কারভাবে সংরক্ষণ করুন।

▪️শিশুর টিকা সময়মতো দিন এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

▪️নিয়মিত শিশুর ওজন ও উচ্চতা মেপে বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করুন।

​​​​
শিশুর ওজন বা উচ্চতা বয়স অনুযায়ী না বাড়লে, শিশু অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল বা নিস্তেজ থাকলে, বারবার অসুস্থ হলে কিংবা খাবারের প্রতি দীর্ঘদিন অনীহা থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক সময়ে সুষম খাবার, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণ—এই চারটি বিষয় শিশুকে অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।