স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পি এম

কৃষকের শরীরে কীটনাশকের প্রভাব: অসাবধানতায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি : সংগৃহীত

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও অসচেতনভাবে এর সংস্পর্শে এলে কৃষকের শরীরে তৈরি হতে পারে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে কীটনাশক ছিটানোর সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া, খালি হাতে ওষুধ মেশানো এবং কাজ শেষে শরীর-হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার পর মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম, চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তীব্র বিষক্রিয়ায় বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকি জীবনহানিও হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু কীটনাশকের অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকলে স্নায়ুতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ঝুঁকি নির্ভর করে কীটনাশকের ধরন, মাত্রা, সংস্পর্শের সময়কাল এবং ব্যক্তির সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর।

 

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন—

​​​​​

▪️​​​কীটনাশক ব্যবহারের সময় লেবেলে নির্দেশিত গ্লাভস, মাস্ক/শ্বাসরোধী সুরক্ষা সরঞ্জাম, চোখের সুরক্ষা ও উপযুক্ত পোশাক ব্যবহার করতে হবে।

▪️খালি হাতে কীটনাশক মেশানো বা স্প্রে করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বাতাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না।

▪️স্প্রে করার সময় খাবার, পানি বা পান-সিগারেট ব্যবহার করা উচিত নয়।

▪️কাজ শেষে সাবান ও পানি দিয়ে হাত-মুখ ও শরীরের উন্মুক্ত অংশ ভালোভাবে ধুতে হবে এবং ব্যবহৃত পোশাক আলাদা করে পরিষ্কার করতে হবে।

▪️কীটনাশকের বোতল বা পাত্র কখনো খাবার বা পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

▪️স্প্রে করার আগে লেবেলের নির্দেশনা ও অপেক্ষার সময় (pre-harvest interval) অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

কীটনাশকের সংস্পর্শের পর গুরুতর অসুস্থতা, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অচেতনতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। বমি করানোর চেষ্টা না করে সম্ভব হলে ব্যবহৃত কীটনাশকের প্যাকেট বা লেবেল সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং কীটনাশকের নির্দেশনা মেনে চলাই হতে পারে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।