স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ পি এম

ইউরোপে বিরল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত শতাধিক রোগী শনাক্ত

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণত গরু, ভেড়া ও ঘোড়ার চামড়ার রোগের জন্য পরিচিত বিরল ব্যাকটেরিয়া ডার্মাটোফিলাস কনগোলেনসিস (Dermatophilus congolensis) এবার ইউরোপের একাধিক দেশে মানুষের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ছয় মাসে অন্তত ছয়টি দেশে ১০০ জনেরও বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে ২০২৫ সালের মে মাসে। সে সময় ৪০ বছর বয়সী এক সুইস নাগরিক থাইল্যান্ডের একটি মুয়ে থাই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ভ্রমণের পর মুখ, মাথার ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত এবং চোখে কনজাংটিভাইটিসে আক্রান্ত হন। জানা যায়, সফরের সময় তিনি হাতির সংস্পর্শে এসেছিলেন। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন এবং ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে পাঁচ মাস পর সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে আরও চারজন পুরুষের শরীরে একই ধরনের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়। তাদের যৌনাঙ্গ ও কুঁচকিতে ক্ষত, পাশাপাশি প্রস্রাবের সময় ব্যথার মতো উপসর্গ ছিল। বিস্ময়কর বিষয় হলো, আক্রান্তদের কেউই সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ করেননি কিংবা কোনো প্রাণীর সংস্পর্শেও আসেননি।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাদের শরীরেও একই ব্যাকটেরিয়া—ডার্মাটোফিলাস কনগোলেনসিস—শনাক্ত হয়। এই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত প্রাণীদের মধ্যে "রেইন রট" নামে পরিচিত একটি চর্মরোগ সৃষ্টি করে এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে স্পেনের বার্সেলোনা, ফ্রান্সের প্যারিস ও লিওঁ, সুইডেনের স্টকহোমসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে একই ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তদন্তে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা এমন পুরুষ, যারা পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন (এমএসএম)। অনেক ক্ষেত্রে সনা বা ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ ঘটে এমন যৌন ভেন্যুতে যাওয়ার ইতিহাসও পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি) জানিয়েছে, অন্তত ছয়টি দেশে ১০০টির বেশি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, কারণ গত প্রায় ৬০ বছরের চিকিৎসাবিষয়ক সাহিত্যে মানুষের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের নথিভুক্ত ঘটনা ছিল ৫০টিরও কম।

গবেষকদের মতে, বর্তমানে শনাক্ত হওয়া সব রোগীই যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে রোগটি বিরল হওয়ায় অনেক চিকিৎসকের কাছে এটি সহজে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণ জনগণের জন্য এই সংক্রমণের ঝুঁকি বর্তমানে কম। তবে যাদের একাধিক যৌনসঙ্গী রয়েছে অথবা যারা ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ ঘটে এমন যৌন ভেন্যুতে নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা অস্বাভাবিক ত্বকের ক্ষত, যৌনাঙ্গে ঘা বা প্রস্রাবে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রোগ শনাক্তে আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।