স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের আওতায় ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার।
ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শনিবার (২৩ আগস্ট) নওগাঁয় হাসপাতাল পরিদর্শন কালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের অধীনে মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডকে তিনটি করে ভাগ করে প্রতিটি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’ নির্মাণ করা হবে। অর্থাৎ একটি ইউনিয়নে মোট তিনটি স্বাস্থ্য ও কল্যাণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি ইউনিয়নের অধীনে ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতি ৩টি ওয়ার্ডের জন্য ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’ নামে একতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত করেছি।”
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে অনেক প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে সাধারণ চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কিংবা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়। নতুন কেন্দ্রগুলো চালু হলে স্থানীয় পর্যায়েই এসব সেবার একটি বড় অংশ পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, নির্মিতব্য ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টারগুলোতে’ মিডওয়াইফ ও টেকনিশিয়ানরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, প্রসূতি এবং নবজাতকের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে গ্রামের মানুষ সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাছাকাছি এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি কমবে।
বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গর্ভকালীন পরামর্শ, প্রসব-পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সহায়ক হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’গুলো শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল ও সেবার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন ‘হেলথ ওয়েলবিয়িং সেন্টার’গুলো সেই উদ্যোগেরই অংশ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব কেন্দ্র নির্মাণ ও কার্যক্রম শুরু হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাও আরও শক্তিশালী হবে।