স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: ময়মনসিংহে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন জেলা সদর হাসপাতাল স্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারের ‘হাসপাতাল নির্মাণ ও শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি’।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সভায় ময়মনসিংহ জেলার জনসংখ্যা, বিদ্যমান চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এতে জেলার মানুষের জন্য পৃথক জেলা হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় ময়মনসিংহে প্রথমে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন জেলার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ। তিনি জানান, জেলার সাতটি উপজেলার মানুষ চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি।
সভায় জানানো হয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেড অকুপেন্সি রেট দেশের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। এ অবস্থায় জেলার মানুষের জন্য পৃথক জেলা হাসপাতাল স্থাপন করা জরুরি বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার ওপর চাপও বাড়ছে। তাই সরকারি হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল থাকলেও ময়মনসিংহে এ ধরনের হাসপাতাল নেই।
বিস্তারিত আলোচনা শেষে কমিটি ময়মনসিংহে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল স্থাপনের সুপারিশ করে। অর্থাৎ শুরুতে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত ২৫০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
সভায় ময়মনসিংহের পাশাপাশি বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ২০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ময়মনসিংহে নতুন জেলা হাসপাতাল স্থাপিত হলে জেলার সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত রোগীর চাপও কমানো সম্ভব হবে।