স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ পি এম

১০ম গ্রেডের ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ, বিএমটিএ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইল প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে পেশাজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা একটি পক্ষ অভিযোগ করেছে, সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কিছু নেতা নিজেদের পদ-পদবি ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ২০ মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ফোরাম’ (MTF) এককভাবে আন্দোলন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে ১০ম গ্রেডসংক্রান্ত ২০টি কোয়েরির সফল জবাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল সচল রাখে। তবে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি জারি হওয়া একটি কোয়েরির জবাবও দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ নিয়ে সংগঠনটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ পক্ষ বলছে, দীর্ঘ সাত বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেডের দাবি ঝুলে থাকলেও সাধারণ পেশাজীবীদের কাঙ্ক্ষিত সমাধান আসেনি। অথচ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও সংগঠন পরিচালনার নামে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৫ ডিসেম্বর নিটোরে আন্দোলনকে ঘিরে একটি ঘটনার পর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই সময় আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

১০ম গ্রেডের ফাইল নিয়ে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ফাইল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। তাদের দাবি, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে দেশের বিপুলসংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট উপকৃত হবেন। কিন্তু ফাইলের প্রশাসনিক অগ্রগতি না হওয়ায় পেশাজীবীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের অনাগ্রহও দায়ী। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন না করলে সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের স্বার্থ কে রক্ষা করবে।

তাদের অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) মহাসচিব বিপ্লব, সভাপতি মঞ্জু এবং যুগ্ম মহাসচিব তুষারের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের পদ ব্যবহার করে সাধারণ সদস্যদের দাবি আদায়ে যথাযথ ভূমিকা না রাখার অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর বিএমটিএর নেতৃত্ব ও সংগঠন পরিচালনায় পরিবর্তনের পরও ১০ম গ্রেডের ফাইলের অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে হয়নি। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারির একটি কোয়েরির জবাব এখনো দেওয়া হয়নি—এমন দাবি তুলে অভিযোগকারীরা দ্রুত ওই কোয়েরির জবাব পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

পেশাজীবীদের একাংশ বলছে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগ নির্ণয়, ল্যাবরেটরি সেবা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, রেডিওলজি, ফিজিওথেরাপি, ডেন্টালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের দীর্ঘদিনের বেতন গ্রেড ও পেশাগত মর্যাদার দাবিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

তারা মনে করেন, সংগঠনগুলোর মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত সদস্যদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা, কর্মপরিবেশ ও যৌক্তিক দাবিগুলো আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা। নেতৃত্বের ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক স্বার্থের চেয়ে সাধারণ পেশাজীবীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগকারী পক্ষ অবিলম্বে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর কোয়েরির জবাব পাঠানো এবং ১০ম গ্রেডের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিএমটিএর নেতৃত্বকে সাধারণ সদস্যদের কাছে তাদের কার্যক্রম ও ফাইলের বর্তমান অবস্থা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে।

তবে অভিযোগগুলো মূলত আন্দোলনকারী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের এক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। বিএমটিএর অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং ১০ম গ্রেডের ফাইলের বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ১০ম গ্রেডের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে তারা সাংগঠনিকভাবে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারে। তাদের ভাষ্য, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে কথার পরিবর্তে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ ও পারস্পরিক অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে ১০ম গ্রেডের ফাইলের প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ, কোয়েরির জবাব দ্রুত প্রদান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে পেশাজীবীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথও সুগম হবে।