স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসকের পরামর্শ, ১০ টাকায় হাসপাতালে ভর্তির টিকিট এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা দিচ্ছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (এমএফএসটিসি) ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল। স্বল্প ব্যয়ে প্রসব, গর্ভকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নবজাতকের চিকিৎসা এবং বন্ধ্যত্ব চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় হাসপাতালটি মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।
হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে টিকিটের মূল্য ৫ টাকা। অন্তর্বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে টিকিটের ফি ১০ টাকা। এখানে স্বাভাবিক প্রসব ও প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে কেবিনে অবস্থানের জন্য নির্ধারিত ভাড়া প্রযোজ্য।
গর্ভকালীন সময়ে মা ও অনাগত সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসব পরীক্ষার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে এমএফএসটিসিতে তুলনামূলক কম খরচে বিভিন্ন পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে।
হাসপাতালটির সেবার তালিকা অনুযায়ী, লোয়ার ও আপার অ্যাবডোমেন, টিভিএস এবং ব্রেস্ট আলট্রাসনোগ্রামের ফি ১১০ টাকা। ফুল অ্যাবডোমেন আলট্রাসনোগ্রামের জন্য দিতে হয় ২২০ টাকা। হিমোগ্লোবিন ও ইএসআর পরীক্ষার ফি ৩০ টাকা, রক্তের গ্রুপ ও আরএইচ ফ্যাক্টর নির্ণয়ে ১০০ টাকা এবং ব্লাড সুগার পরীক্ষায় ৬০ টাকা নেওয়া হয়। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা।
এ ছাড়া থাইরয়েড হরমোনের টি-থ্রি, টি-ফোর ও টিএসএইচ পরীক্ষার প্রতিটির ফি ২০০ টাকা। প্রোল্যাকটিন, টেস্টোস্টেরন, প্রোজেস্টেরন, বিটা-এইচসিজি ও এস্ট্রাডিওল পরীক্ষার প্রতিটির ফি ২৫০ টাকা। প্রস্রাব ও মলের সাধারণ পরীক্ষার ফি ২০ টাকা, প্রেগন্যান্সি টেস্ট ৮০ টাকা এবং সিমেন অ্যানালাইসিসের ফি ৫০ টাকা। ব্লাড স্ক্রিনিং, ক্রস-ম্যাচিং ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মতো ব্লাড ব্যাংক সেবার ফি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাসপাতালটিতে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এ কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে টিকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
হাসপাতালটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা ও প্রজননস্বাস্থ্য। সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় হরমোন পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নারীদের স্ত্রীরোগের চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সেবাও রয়েছে।
সাশ্রয়ী মূল্যে এসব সেবা পাওয়ার সুযোগ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে আর্থিক বাধা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ড. মো. শামসুজ্জামান বলেন, “স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রসবসেবা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, নবজাতক এবং সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। ভবিষ্যতেও সেবার মান বজায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”