স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
প্লেগের সবচেয়ে গুরুতর ও দ্রুত অগ্রসর হওয়া ধরনগুলোর একটি হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি সরাসরি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে দ্রুত শনাক্ত করে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দেওয়া হলে রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
নিউমোনিক প্লেগের জন্য দায়ী Yersinia pestis নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এটি সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা আক্রান্ত মাছির মধ্যে টিকে থাকে। আক্রান্ত মাছির কামড়, সংক্রমিত প্রাণীর টিস্যু বা শরীরের তরলের সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। আবার শরীরে প্রবেশের পর সংক্রমণ ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়লেও নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে।
এই রোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মানুষ থেকেও মানুষে ছড়াতে পারে। নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বের হওয়া সংক্রমিত কণা কাছাকাছি থাকা অন্য ব্যক্তি শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে সংক্রমণ হতে পারে। WHO বলছে, নিউমোনিক প্লেগ বিশেষভাবে সংক্রামক এবং মানুষের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের কণার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
রোগটির লক্ষণ খুব দ্রুত দেখা দিতে পারে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউমোনিক প্লেগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড কখনও মাত্র ২৪ ঘণ্টা হতে পারে। হঠাৎ জ্বর, দুর্বলতা, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কাশির সঙ্গে রক্তমিশ্রিত কফও বের হতে পারে।
নিউমোনিক প্লেগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এর দ্রুত অবনতি। WHO বলছে, চিকিৎসা না করা হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রোগের শুরু থেকে ১৮–২৪ ঘণ্টার মধ্যেও মৃত্যু ঘটতে পারে। তবে দ্রুত উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলে রোগটি কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা যায়।
WHO-এর প্লেগ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগী উপসর্গ শুরু হওয়ার সময় থেকেই সংক্রামক হতে পারেন। তাই সন্দেহভাজন রোগীকে আলাদা রাখা, স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা নেওয়া এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নিউমোনিক প্লেগ বর্তমানে বিরল। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, Yersinia pestis এখনও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও মাছির মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে টিকে আছে। ১৯৯০-এর দশকের পর মানুষের প্লেগের অধিকাংশ ঘটনা আফ্রিকায়, বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও মাদাগাস্কারে ঘটেছে।
রোগ প্রতিরোধে আক্রান্ত প্রাণী বা প্রাণীর মৃতদেহ স্পর্শ না করা, মাছির কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং সন্দেহজনক রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
WHO সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত প্লেগের টিকা সুপারিশ করে না; তবে উচ্চঝুঁকিতে থাকা কিছু ব্যক্তি, যেমন নির্দিষ্ট গবেষণাগারকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীর ক্ষেত্রে টিকা বিবেচনা করা হতে পারে।
নিউমোনিক প্লেগ ভয়ংকর হলেও এটি চিকিৎসাযোগ্য। তাই হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা রক্তসহ কাশি দেখা দিলে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের সংস্পর্শের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।