স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

জামাল হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি
  ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পি এম

জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে চার মেশিন অচল, রেডিওথেরাপির জন্য রোগীদের হাহাকার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রেডিওথেরাপি। তবে দেশের প্রধান সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিআরএইচ) রেডিওথেরাপির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

হাসপাতালের ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় মাত্র দুটি মেশিনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন রোগীদের রেডিওথেরাপির সিরিয়াল দেওয়া গত এক মাস ধরে বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে সিরিয়াল পাওয়া রোগীদের কারও কারও চিকিৎসার সময় নির্ধারিত হয়েছে ২০২৮ সালের শেষভাগে। ফলে অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য চিকিৎসা শেষে দ্রুত রেডিওথেরাপি প্রয়োজন এমন রোগীরাও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তিন শিফটে দুটি মেশিন চালু রাখা হয়েছে। এসব মেশিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ রোগীকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের কারণে সচল দুটি মেশিনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

এনআইসিআরএইচের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন জানান, নতুন রোগীদের সিরিয়াল দেওয়া হলেও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তা কার্যকর সুফল দেবে না। কোনো রোগীকে দুই বছর পর রেডিওথেরাপির সুযোগ দেওয়া হলে এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সাত হাজারের বেশি রোগী অপেক্ষমাণ থাকায় নতুন নিবন্ধন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালের চারটি রেডিওথেরাপি মেশিন দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিকল। একটি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা ও স্থাপনে প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় একসঙ্গে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মেশিন কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে সংকট মোকাবিলায় একটি নতুন মেশিন কেনা হয়েছে। মেশিনটি আগামী জানুয়ারির মধ্যে দেশে আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি মেশিন কেনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, ক্যান্সার রোগীদের এ ধরনের দীর্ঘ অপেক্ষা উদ্বেগজনক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনে রেডিওথেরাপি সেবা দেওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, একক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এনআইসিআরএইচে রোগীর চাপ বেশি। এ চাপ কমাতে আটটি বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সার চিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক থাকলে রেডিওথেরাপির সংকট সহজে কাটবে না। নতুন হাসপাতাল ও মেশিন স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশিক্ষিত রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিকেল ফিজিসিস্ট ও রেডিয়েশন থেরাপিস্ট। সময়মতো রেডিওথেরাপি নিশ্চিত করতে অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল, সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।