স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পি এম

গ্রামে চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনা, টেলিমেডিসিনে ঘরে বসেই মিলছে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ছবি : সংগৃহীত

দেশের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সময় কাছাকাছি ভালো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না। দূরের জেলা বা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে সময়, যাতায়াত খরচ ও নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগীরা ভিডিও কল, ফোন বা নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসা, দীর্ঘমেয়াদি রোগের ফলোআপ, পরীক্ষার রিপোর্ট দেখানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর হতে পারে।

গ্রামীণ মানুষের জন্য টেলিমেডিসিনের বড় সুবিধা হলো সময় ও যাতায়াতের খরচ কমানো। একজন রোগীকে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য শহরে যেতে না হলে তার অর্থ ও সময় দুটিই সাশ্রয় হয়। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগও পান।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের নিয়মিত ফলোআপের ক্ষেত্রেও টেলিমেডিসিন সহায়ক হতে পারে। আগের চিকিৎসার তথ্য, রিপোর্ট ও ওষুধের তালিকা চিকিৎসকের সঙ্গে শেয়ার করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া যায়।
এ ছাড়া নারী, শিশু, বয়স্ক ও চলাচলে অসুবিধা রয়েছে এমন রোগীদের জন্যও দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ সুবিধাজনক হতে পারে। তবে সব ধরনের রোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে টেলিমেডিসিন সরাসরি চিকিৎসার বিকল্প নয়। শ্বাসকষ্ট, বুকে তীব্র ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, গুরুতর আঘাত বা অন্যান্য জরুরি অবস্থায় দ্রুত সরাসরি হাসপাতালে বা চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টেলিমেডিসিনের কার্যকারিতা বাড়াতে গ্রামীণ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে টেলিমেডিসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।