স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পি এম

অতিরিক্ত রোগীর চাপে নাকাল সিলেট ওসমানী মেডিকেল, ৩ হাজার শয্যার দাবি

ছবি : সংগৃহীত

সিলেট: অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৯০০ হলেও ৫০০ শয্যাভিত্তিক জনবল কাঠামোতে পরিচালিত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন তিন হাজারের বেশি রোগী। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন হাজার হাজার মানুষ।

বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা তিন হাজারে উন্নীত করাসহ একাধিক প্রস্তাব ও চাহিদা জানিয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে শুক্রবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পরিদর্শনকালে তাঁরা হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫০০ শয্যাভিত্তিক জনবল কাঠামোর এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৩০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। এতে বেড অকুপেন্সি রেট প্রায় ৩৩১ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন আরও চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

সীমিত অবকাঠামো ও বিদ্যমান জনবল দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টার্ন ও মিড-লেভেল চিকিৎসকদের জন্য দ্রুত নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নেরও দাবি রয়েছে।

পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও বেসরকারি মিড-লেভেল চিকিৎসকদের ভাতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৫ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি ও হার্ট সেন্টারের ৪৬০ শয্যার অবশিষ্ট নির্মাণকাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করে চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাইকা-ফান্ডেড ডায়াগনস্টিক ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিবেশ রোগীবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডের টয়লেট-বাথরুম সংস্কারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে হাসপাতালের সেবা সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে তিন হাজার শয্যার অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক জনবল দ্রুত পদায়নের দাবি জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতালটিকে এক হাজার ৪০০ শয্যায় উন্নীত করার একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বাজেট বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। ওটি, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন এসি স্থাপন, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রস্তাবও রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের আনসার সদস্যের সংখ্যা ৮০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ জন এবং পুলিশ বক্সে সদস্য সংখ্যা ৫০ জনে উন্নীত করার জন্যও জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের তুলনায় বিদ্যমান শয্যা, অবকাঠামো ও জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে দ্রুত শয্যা ও জনবল বৃদ্ধি, চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা গেলে সিলেট ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।