স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পি এম

দেশের ৩৪টির মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, সবচেয়ে বেশি ‘মেডিপ্লাস টুথপেস্টে!

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল’-এ।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে এসডোর নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক বছরব্যাপী এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতে উৎপাদিত পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুইটি টুথপেস্টের উভয়টিতেই এই ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। শিশুদের ব্যবহৃত টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

তবে গবেষণায় কিছু ইতিবাচক তথ্যও উঠে এসেছে। এসডোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার ও এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এসডো।