স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
গর্ভাবস্থার ২০ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে ‘অ্যানোমালি স্ক্যান’ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন নারী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহিদা বেগম মিনু। তাঁর ভাষ্য, সময়মতো এই বিশেষ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলে গর্ভস্থ শিশুর গুরুতর জন্মগত ত্রুটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা পরবর্তী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক।
সম্প্রতি ২২ সপ্তাহের এক গর্ভবতী নারীর অ্যানোমালি স্ক্যান করতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখতে পান, গর্ভস্থ শিশুর একটি হাতের আঙুলগুলো তৈরি হয়নি, হাতটি স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট এবং হাতের একটি প্রধান হাড় অনুপস্থিত। বিস্তারিত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটি গুরুতর জন্মগত শারীরিক ত্রুটিতে আক্রান্ত।
ডা. শাহিদা বেগম মিনু জানান, শিশুটির সম্ভাব্য জীবনমান, শারীরিক জটিলতা এবং পরিবারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আইনগত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দেশনা মেনে মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি (Medical Termination of Pregnancy–MTP) সম্পন্ন করা হয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনার উদ্দেশ্য কাউকে আতঙ্কিত করা নয়; বরং গর্ভকালীন নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানোমালি স্ক্যান সাধারণ আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো নয়। এ পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক, মুখমণ্ডল, মেরুদণ্ড, হৃদ্যন্ত্র, কিডনি, হাত-পা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের গঠন বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। অনেক জন্মগত ত্রুটি এই পরীক্ষাতেই প্রথম শনাক্ত হয়।
ডা. মিনু আরও বলেন, জন্মগত ত্রুটির জন্য মাকে দায়ী করা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ত্রুটি জিনগত বা ভ্রূণের বিকাশজনিত কারণে হয়ে থাকে এবং সময়মতো পরীক্ষা ছাড়া তা শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
তিনি সব গর্ভবতী মাকে নির্ধারিত সময়ে প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গর্ভাবস্থার ২০ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে অ্যানোমালি স্ক্যান করানো মা ও অনাগত শিশুর সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শাহিদা বেগম মিনু এ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গর্ভকালীন অ্যানোমালি স্ক্যানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।