স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
সংক্রমণ শনাক্তে কালচার টেস্ট (যেমন ব্লাড কালচার বা ইউরিন কালচার) করার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করার চেয়ে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগেই নমুনা সংগ্রহ করাই সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নমুনা সংগ্রহের পরপরই প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে, এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-দুই ক্ষেত্রেই সর্বোত্তম ফল পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক রোগী অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার পর কালচার টেস্ট করান। এ অবস্থায় ওষুধের প্রভাবে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন হয়ে যেতে পারে। ফলে ল্যাব পরীক্ষায় ফলস নেগেটিভ (False Negative) রিপোর্ট আসার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ শরীরে সংক্রমণ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় তা ধরা নাও পড়তে পারে।
তারা বলেন, যদি কোনো রোগী ইতোমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে কালচার টেস্টের সময় নির্ধারণে কিছু নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৩ থেকে ৭ দিনের স্বল্পমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ হওয়ার পর সাধারণত ১ থেকে ২ দিন বিরতি দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা উচিত। অন্যদিকে ৭ দিনের বেশি সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বা একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ক্ষেত্রে ওষুধের প্রভাব কমতে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা সফল হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য যাকে 'টেস্ট অব কিউর (Test of Cure)' বলা হয়, সে ক্ষেত্রে শেষ অ্যান্টিবায়োটিক ডোজ গ্রহণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ইউরিন বা প্রয়োজনীয় কালচার টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র কালচার টেস্ট করানোর উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাঝপথে অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণ সম্পূর্ণ নির্মূল না হয়ে ব্যাকটেরিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে।
তাদের মতে, কালচার টেস্টের প্রয়োজন হলে কখন নমুনা দেওয়া হবে এবং অ্যান্টিবায়োটিক কীভাবে চালানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হবে, এসব সিদ্ধান্ত অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত। এতে সঠিক রোগ নির্ণয়, কার্যকর চিকিৎসা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।