স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ডিসেক্টিং সেলুলাইটিস অফ দ্য স্ক্যাল্প বা ‘হফম্যান ডিজিজ’ নামে পরিচিত একটি বিরল কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে অনেক রোগী দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং অপরিচ্ছন্নতার কারণেও হয় না। রোগটির মূল কারণ মাথার ত্বকের লোমকূপের ভেতরে বাধা সৃষ্টি হওয়া। এতে লোমকূপ ফুলে ওঠে এবং একপর্যায়ে ভেঙে যায়। এর ফলে ত্বকের নিচে পুঁজভর্তি সুড়ঙ্গের মতো গঠন (সাইনাস ট্র্যাক্ট) এবং গভীর ফোঁড়া তৈরি হয়।
রোগের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথার ত্বকে বারবার ফোঁড়া হওয়া, তীব্র ব্যথা, পুঁজ নিঃসরণ এবং আক্রান্ত স্থানে প্রদাহ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও যুক্ত হয়, যা সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে সহজে নিয়ন্ত্রণে আসে না। রোগটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে মাথার ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি হয় এবং আক্রান্ত স্থানের চুল স্থায়ীভাবে ঝরে যেতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি হলেও এটি অন্য জাতিগোষ্ঠী ও নারীদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ ফলিকুলাইটিস বা চুলের গোড়ার সংক্রমণের মতো হওয়ায় অনেক সময় এটি সঠিকভাবে শনাক্ত হতে দেরি হয়। ফলে রোগীরা বছরের পর বছর ভুল চিকিৎসা নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মাথার ত্বকে বারবার ফোঁড়া, পুঁজ, ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগের অগ্রগতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যেহেতু এটি সংক্রামক নয়, তাই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য বা ভুল ধারণা পোষণ করা উচিত নয়। রোগীদের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘস্থায়ী এই রোগ তাদের আত্মবিশ্বাস ও জীবনমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।