স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পি এম

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে ডায়াবেটিস রোগীদের যে সব পরীক্ষা জরুরী!

ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে যায়, এমন ধারণা ভুল বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক ডা. মো. নাজমুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করলেও অনেক রোগী দীর্ঘদিন লিপিড প্রোফাইল (Lipid Profile) পরীক্ষা না করায় নীরবে কোলেস্টেরল জমে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এক রোগীর HbA1c ছিল ৬.১ শতাংশ, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে অত্যন্ত ভালো। রোগী তিন বছর ধরে নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণ মেনে চলছিলেন। এমনকি তিনি ওই রোগীকে নিজের অন্যতম সেরা রোগী বলেও প্রশংসা করেছিলেন।

তবে মাত্র দুই মাস পর ওই রোগী হার্ট অ্যাটাক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এনজিওগ্রামে দেখা যায়, তার তিনটি প্রধান করোনারি ধমনীতেই গুরুতর ব্লক তৈরি হয়েছে। পরে রোগীর চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে কোনো লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করাননি।

ডা. বাপ্পীর ভাষ্য, ডায়াবেটিস শুধু রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ায় না, এটি শরীরে এমন ধরনের কোলেস্টেরল তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়, যা সাধারণ পরীক্ষায় অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হলেও রক্তনালীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও ঘন এলডিএল (LDL) কণিকা, কম এইচডিএল (HDL) এবং বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড (Triglycerides) একসঙ্গে থাকলে ধমনীর দেয়ালে চর্বি জমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, অনেক ডায়াবেটিস রোগী মনে করেন, সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলেই তারা নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে ডায়াবেটিসের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এ কারণে তিনি ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শুধু এলডিএল নয়, ট্রাইগ্লিসারাইড ও এইচডিএলের মাত্রাও মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, বিশেষ করে স্ট্যাটিন, বন্ধ না করারও আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: ডা. মো. নাজমুল হাসান বাপ্পীর জনসচেতনতামূলক বক্তব্য।