স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

যে প্রাথমিক লক্ষণগুলো পরবর্তীতে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি করে!

ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ক্যান্সার সাধারণত শুরুতেই তীব্র উপসর্গ নিয়ে আসে না। বরং শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে নীরবে সংকেত দেয়। এসব লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা ভেবে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে রোগটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, ফলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, অনেক রোগী প্রথম দিকে শরীরে ছোট কোনো গিঁট, দীর্ঘদিনের কাশি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে চিকিৎসা নেন না। অনেকেই নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সময় নষ্ট করেন। এতে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয় এবং ক্যান্সার অনেক ক্ষেত্রে অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

সম্প্রতি সচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রচারণায় দুটি বাস্তবধর্মী ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। একটিতে ৩৪ বছর বয়সী এক নারী তিন মাস ধরে গলার নিচে একটি ছোট গিঁট অনুভব করলেও সেটিকে সাধারণ লিম্ফ নোডের সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেননি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বায়োপসি করলে প্রাথমিক পর্যায়ের থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ায় তিনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন পায়খানার সঙ্গে অল্প রক্ত যাওয়াকে পাইলসের সমস্যা মনে করে নিজে নিজে চিকিৎসা চালিয়ে যান। প্রায় আট মাস পর কোলোনোস্কপি পরীক্ষায় তার কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে, যা তখন অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, শুরুতেই পরীক্ষা করালে রোগটি অনেক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক, বাত, সংক্রমণ বা অন্যান্য সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। ফলে রোগীরা বিভ্রান্ত হন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেন। কিন্তু শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে স্থায়ী থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, যেসব লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, শরীরের যেকোনো স্থানে নতুন গিঁট বা মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া এবং সেটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকা, কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি বা গলা ভাঙা, পায়খানা বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন কিংবা রক্ত যাওয়া, তিল বা জন্মদাগের রং ও আকার পরিবর্তন, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া, দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং কোনো ক্ষত দীর্ঘ সময়েও না শুকানো।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে ক্যান্সার হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন সাধারণ রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষণগুলো অব্যাহত থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

অনকোলজিস্টদের মতে, ক্যান্সার যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া অনেক ধরনের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে যায় এবং রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা সবাইকে নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শরীরে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা পর্যবেক্ষণ করা, তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরিবারের কারও ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা করানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক লক্ষণকে অবহেলা না করা। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই একটি জীবন রক্ষা করা সম্ভব।