স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ পি এম

যে লক্ষণগুলো বাচ্চার পেটের ক্রিমির সংক্রমণ নিশ্চিত করে!

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের মধ্যে ক্রিমির সংক্রমণ একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা হলেও অনেক অভিভাবক প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, পুষ্টি এবং স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়ুপথে চুলকানি, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন না বাড়া কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের অন্ত্রের পরজীবী বা ক্রিমি বাসা বাঁধতে পারে। এগুলো খাবারের পুষ্টি শোষণ করে নেওয়ার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু বাইরে খেলাধুলা করে, হাত না ধুয়ে খাবার খায় বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করে, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রিমিতে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে বেশ কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, রাতের বেলায় পায়ুপথে তীব্র চুলকানি, পেটব্যথা বা পেট ফাঁপা, ক্ষুধামন্দা কিংবা কখনও অতিরিক্ত ক্ষুধা, ওজন না বাড়া বা ওজন কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি, রাতে অস্থিরতা ও ঘুমের সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মলে ক্রিমিও দেখা যেতে পারে। তবে দাঁত কিড়মিড় করা একমাত্র ক্রিমির লক্ষণ নয়; এটি অন্য কারণেও হতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “অনেক অভিভাবক মনে করেন, শুধু পেটব্যথা বা ক্ষুধামন্দা মানেই সাধারণ হজমের সমস্যা। কিন্তু যদি এর সঙ্গে রাতে পায়ুপথে চুলকানি, ওজন না বাড়া বা ঘুমের ব্যাঘাত যুক্ত হয়, তাহলে ক্রিমির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিতে হবে। তবে শুধু লক্ষণ দেখে ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্রিমির সংক্রমণ দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে শিশুর পুষ্টিহীনতা, রক্তস্বল্পতা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।”

চিকিৎসকদের মতে, ক্রিমি প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের খাবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নখ ছোট রাখতে হবে, বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে এবং ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। পাশাপাশি খালি পায়ে মাটিতে হাঁটার অভ্যাস কমানোও উপকারী।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, জাতীয় কৃমিনাশক কর্মসূচির আওতায় সরকার নির্ধারিত সময়ে শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি পরিবারকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কারণ একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শিশুর দাঁত কিড়মিড় করা বা ক্ষুধামন্দার মতো একটি মাত্র লক্ষণ দেখে ক্রিমির ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। কারণ এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে। শিশুর মধ্যে একাধিক লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের ক্রিমির সংক্রমণ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের উচিত ছোটখাটো লক্ষণকেও গুরুত্ব দিয়ে শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা।