স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পি এম

ক্যান্সার প্রতিরোধে শুধু টক দই নয়, কার্যকর অস্ত্র স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন!

ছবি: সংগৃহীত

"প্রতিদিন এক বাটি টক দই খেলেই ক্যান্সার হবে না"-এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত থাকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কোনো একক খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত টক দই খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী এবং এটি ক্যান্সারের কিছু ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ অন্ত্র রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত দই খাওয়ার সঙ্গে বিশেষ করে বৃহদান্ত্রের (কোলোরেক্টাল) কিছু রোগের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এটি সরাসরি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

পুষ্টিবিদরা জানান, টক দই একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের কোষ গঠন ও মেরামতে সহায়তা করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে, ভিটামিন বি–১২ স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে শুধু টক দইয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ বর্জন, অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এইচপিভি (HPV)হেপাটাইটিস বি-এর টিকা গ্রহণ এবং বয়স ও ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কারণ অনেক ধরনের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের স্বাদযুক্ত বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো দই পাওয়া যায়। এসব দইয়ের পরিবর্তে ঘরে পাতা টক দই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি উপকারী। ঘরে তৈরি টক দইয়ে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং বা সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে না, ফলে এটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের একটি ভালো অংশ হতে পারে।

তাদের ভাষ্য, টক দই একটি পুষ্টিকর ও উপকারী খাবার হলেও এটি ক্যান্সারের ওষুধ নয় এবং এককভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে না। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপানমুক্ত জীবন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এসবের সমন্বিত চর্চাই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঘরে পাতা টক দই রাখার পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।