স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বুলেটপ্রুফ কফি। অরগানিক কফির সঙ্গে গ্রাস-ফেড ঘি (বা মাখন) এবং এমসিটি (MCT) অয়েল অথবা নারকেল তেল মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ পানীয়। বিশেষ করে যারা লো-কার্ব বা কিটোজেনিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন, তাদের মধ্যে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুলেটপ্রুফ কফিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করে এবং দ্রুত ক্লান্তি অনুভূত হয় না। একই সঙ্গে এতে থাকা ক্যাফেইন ও ফ্যাটের সমন্বয় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, মনোযোগ ও মানসিক ফোকাস বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া এই পানীয় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় অনেকেই বুলেটপ্রুফ কফিকে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ নাশতায় থাকা পরিশোধিত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট অনেক সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, বুলেটপ্রুফ কফিতে স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি তুলনামূলকভাবে রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নয় এবং ওষুধের বিকল্পও নয়।
এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারায় এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলেন, বুলেটপ্রুফ কফিতে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই নিয়মিত বা অতিরিক্ত পরিমাণে পান করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ, লিভারের সমস্যা বা কিডনি রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত পরিমাণে বুলেটপ্রুফ কফি গ্রহণ করা উচিত।