স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পি এম

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, ঠান্ডা ঘরে ঘুমান!

ছবি: সংগৃহীত

ভালো ঘুমের জন্য শীতল পরিবেশের গুরুত্ব অনেক দিন ধরেই জানা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য-ঠান্ডা ঘরে ঘুমালে শুধু ঘুমের মানই উন্নত হয় না, শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরিও খরচ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট মাত্রার ঠান্ডা পরিবেশ শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করে এবং ‘ব্রাউন ফ্যাট’ বা বাদামি চর্বির কার্যকারিতা বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কক্ষে টানা চার সপ্তাহ ঘুমিয়েছেন, তাদের শরীরে ব্রাউন ফ্যাটের পরিমাণ ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশেষ ধরনের চর্বি শরীরে জমে থাকা শক্তিকে তাপে রূপান্তর করে শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ে এবং বিপাকক্রিয়া কিছুটা দ্রুত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরে দুই ধরনের প্রধান চর্বি থাকে-হোয়াইট ফ্যাট এবং ব্রাউন ফ্যাট। হোয়াইট ফ্যাট অতিরিক্ত শক্তি জমা রাখে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে ব্রাউন ফ্যাট শক্তি সঞ্চয় না করে তা ব্যবহার করে তাপ উৎপাদন করে। ঠান্ডা পরিবেশে শরীরকে উষ্ণ রাখার প্রয়োজন হলে ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ক্যালোরি খরচ বাড়ায়।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঠান্ডা পরিবেশে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালোরি পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। যদিও এই সংখ্যা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গভীর ঘুমে সহায়ক

ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। কক্ষের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলে শরীর দ্রুত ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয় এবং গভীর ঘুমে যেতে সুবিধা হয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদর্শ ঘুমের তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এই তাপমাত্রায় ঘুমালে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমে, শরীর ও মস্তিষ্ক ভালোভাবে বিশ্রাম নিতে পারে এবং সকালে সতেজ অনুভূত হয়।

স্বাস্থ্যগত আরও উপকার

চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। ভালো ঘুমের ফলে—

  • ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
  • অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।

অন্যদিকে ঘুমের ঘাটতি স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শুধু ঠান্ডা ঘরই সমাধান নয়

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু ঠান্ডা ঘরে ঘুমালেই ওজন কমে যাবে-এমন ধারণা সঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম-সবকিছুর সমন্বয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

এছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে ঘুমানোও সবার জন্য উপযোগী নয়। বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, হাঁপানি বা কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আরামদায়ক তাপমাত্রা নির্বাচন করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা শীতল রাখা, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, ঘুমানোর আগে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

তাদের মতে, ঠান্ডা পরিবেশে ঘুম শরীরের ক্যালোরি খরচ কিছুটা বাড়াতে পারে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি ওজন কমানোর কোনো অলৌকিক উপায় নয়; বরং সুস্থ জীবনযাপনের একটি কার্যকর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।