স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিবাহিত দম্পতিদের রাতের খাবারে পুষ্টিকর ড্রাই ফ্রুটস ও বিভিন্ন বীজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক পরিমাণে বাদাম, কিশমিশ ও বীজজাতীয় খাবার দাম্পত্য জীবনে সুস্থতা বজায় রাখতে, শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি নগর ও শহরতলীর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রাতের খাবারের পর হালকা স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট, কিশমিশ, সূর্যমুখীর বীজ ও কুমড়োর বীজ খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবারে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
ছবিতে দেখা যায়, একটি পাত্রে সাজানো রয়েছে আখরোট, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কিশমিশ, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ এবং শুকনো ফল। পুষ্টিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই খাবারগুলোর সমন্বয় একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকর রাতের নাশতা হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে। কাঠবাদাম হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কাজুবাদামে থাকা খনিজ উপাদান শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে কিশমিশে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা ও আয়রন, যা ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।
পুষ্টিবিদদের মতে, বিবাহিত দম্পতিদের অনেকেই কর্মব্যস্ততার কারণে রাতে ভারী খাবার খেয়ে থাকেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এ অবস্থায় রাতের খাবারের পর অল্প পরিমাণ ড্রাই ফ্রুটস ও বীজ খাওয়া স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
জাতীয় পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার গ্রহণ করলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতাও হ্রাস পায়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, রাতের খাবারের পর স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসে স্বাস্থ্যকর নাশতা গ্রহণ এবং দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা পারিবারিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে। ব্যস্ত জীবনে এই সময়টুকু মানসিক প্রশান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতেও সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন এক মুঠো বা ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ড্রাই ফ্রুটস ও বীজ যথেষ্ট। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাই সবচেয়ে উপকারী।
তাদের মতে, রাতের খাবারের পর চিপস, কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে আখরোট, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কিশমিশ ও বিভিন্ন বীজের সমন্বয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর নাশতা বেছে নেওয়া উচিত। এতে শরীর যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি পারিবারিক জীবনও হবে আরও প্রাণবন্ত ও স্বাস্থ্যকর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, “সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য শুধু ভালোবাসাই নয়, প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাসও। আর পুষ্টিকর রাতের খাবার বা স্বাস্থ্যকর নাশতা হতে পারে সেই সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি।”