স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পি এম

কুসুম কাঁচা রেখে ডিম পোচ খাওয়ার যত উপকারিতা!

ছবি: সংগৃহীত

ডিমকে বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিমের উপস্থিতি অত্যন্ত সাধারণ। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কুসুম সম্পূর্ণ শক্ত না করে নরম বা কাঁচা রেখে পোচ করা ডিম খেলে এর কিছু পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ডিম অবশ্যই তাজা, পরিষ্কার এবং নিরাপদ উৎসের হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এ, ডি, ই, বি–১২, ফলেট, সেলেনিয়াম, আয়রন এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। এসব উপাদান শরীরের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং কোষের স্বাভাবিক কাজ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উচ্চমানের প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস

ডিমে থাকা প্রোটিন শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয় পূরণে সহায়তা করে। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরের কোষ পুনর্গঠন সহজ হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়

ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ এবং গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্র গঠনের ক্ষেত্রেও কোলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

কুসুমে থাকা লুটেইনজিয়াজ্যানথিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলো চোখকে ক্ষতিকর আলোর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয় এবং বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।

ভিটামিনের ভালো উৎস

ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন এ চোখ ও ত্বকের জন্য উপকারী। ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে, আর ভিটামিন ই কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি–১২ রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর চর্বির যোগান

ডিমের কুসুমে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে এবং বিভিন্ন ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে।

কম তাপে রান্না করলে কিছু পুষ্টি ভালো থাকতে পারে

পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত উচ্চ তাপে দীর্ঘ সময় রান্না করলে কিছু তাপ-সংবেদনশীল ভিটামিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই নরম কুসুম রেখে পোচ করলে কিছু পুষ্টি তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে। তবে রান্নার ধরনভেদে এই পার্থক্য খুব বেশি নয়।

খাঁটি ঘি বা এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল তেল ব্যবহার

অনেকে পোচ তৈরিতে খাঁটি ঘি বা এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করেন। পরিমিত পরিমাণে খাঁটি ঘি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। অন্যদিকে এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল তেলে থাকা মিডিয়াম-চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস (MCT) দ্রুত শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। তবে যেকোনো তেল বা ঘি পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই স্বাস্থ্যসম্মত।

সতর্কতাও জরুরি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কুসুম কাঁচা বা নরম রেখে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে ডিম অবশ্যই তাজা এবং নিরাপদ উৎসের হতে হবে। কারণ কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা ডিমে বিরল হলেও স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য সম্পূর্ণ সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাওয়াই বেশি নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও সুস্থ থাকার জন্য শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, পূর্ণ শস্যসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাজা ও নিরাপদ ডিম দিয়ে নরম কুসুমের পোচ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।