স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ভিটামিন সি-এর অন্যতম পরিচিত উৎস হিসেবে কমলার নামই সবার আগে মনে আসে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, ভিটামিন সি-এর দিক থেকে লাল ক্যাপসিকাম (রেড বেল পেপার) কমলার চেয়েও সমৃদ্ধ। শুধু ভিটামিন সি-ই নয়, এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন এ-এর পূর্বসূরি, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের USDA FoodData Central-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা লাল ক্যাপসিকামে প্রায় ১২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। একই পরিমাণ কমলায় ভিটামিন সি থাকে প্রায় ৪৫ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ, সমপরিমাণ ওজনে লাল ক্যাপসিকামে কমলার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি আয়রন শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে, ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
লাল ক্যাপসিকামে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের সুস্থতা, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক। এছাড়া এতে লুটেইন, জিয়াজ্যানথিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা চোখের জন্যও উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শুধু ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি বলেই কমলার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে ক্যাপসিকামের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন না পুষ্টিবিদরা। কারণ, কমলায় রয়েছে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ফোলেট এবং বিভিন্ন বায়োঅ্যাকটিভ উদ্ভিজ্জ উপাদান, যা হৃদ্স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই একটি খাবারের পরিবর্তে অন্যটিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে না দেখে, বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিটামিন সি তাপ-সংবেদনশীল একটি পুষ্টি উপাদান। ফলে লাল ক্যাপসিকাম দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে রান্না করলে এর কিছু ভিটামিন সি নষ্ট হতে পারে। এজন্য সালাদ, স্যান্ডউইচ বা হালকা রান্না করে খেলে তুলনামূলক বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও ফল অন্তর্ভুক্ত করলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়। লাল ক্যাপসিকাম সেই বৈচিত্র্যের একটি উৎকৃষ্ট অংশ হতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কোনো একটি খাবার একাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে না। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান পরিহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি। তাই কমলার পাশাপাশি লাল ক্যাপসিকামও খাদ্যতালিকায় রাখলে পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়বে এবং শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও সহজে পাবে।