স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা : দেশে হামের প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে আবারও বড় পরিসরে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, নতুন করে হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশই এখনো হামের টিকা নেয়নি। টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসোসিয়েশন ফর ডিজএবল্ড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব অব আহসান মঞ্জিল ঢাকা যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন এডিপির চেয়ারম্যান রওশন আরা জামান।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত সরকার কোনো টিকা রেখে না যাওয়ায় দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর শুরুতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি টিকা সংগ্রহ করে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, এখনো যেসব শিশু হামের টিকার আওতায় আসেনি, তাদের জন্য ইউনিসেফের মাধ্যমে নতুন টিকা এসেছে। এসব টিকা ব্যবহার করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় বড় পরিসরে হামের টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। তাই কোনো শিশু যাতে টিকার আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন করে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের বড় একটি অংশ টিকা না নেওয়ার কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে। এ কারণে টিকার আওতাবঞ্চিত শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাসাবাড়িতে ফুলের টবসহ বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি মফস্বল এলাকাতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছে।
তিনি আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নয়, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এর আগে সকালে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত একটি র্যালিতে অংশ নেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।