স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

ক্যানসার চিকিৎসায় ৫৩৫ কোটি টাকায় নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপন করবে সরকার

ফাইল ছবি

ঢাকা: ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের উন্নত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পাঁচটি নতুন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ইনমাস স্থাপন করা হবে সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এবং কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের পুরো ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে নির্বাহ করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনাধীন রয়েছে।

বাসসকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং দেশের সর্বত্র মানুষের জন্য ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ক্যানসার রোগীকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়। এ সেবা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষ যেন নিজ নিজ বিভাগে ক্যানসারের চিকিৎসা নিতে পারেন, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় নতুন ইনমাসগুলোতে পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি-কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (পিইটি-সিটি), স্পেক্ট-সিটি, বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি), কালার ডপলার ও থাইরয়েড স্ক্যানারসহ আধুনিক রোগনির্ণয় প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে।

এসব প্রতিষ্ঠানে থাইরয়েড, কিডনি, যকৃৎ ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং নানা ধরনের ক্যানসার শনাক্তকরণে নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক সেবা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, দেশে ইতোমধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২২টি ইনমাস স্থাপন করেছে বিএইসি। নতুন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবার পরিধি আরও বাড়বে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা মূলধনী ব্যয় এবং ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা রাজস্ব ব্যয় হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে ভবন নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীকেন্দ্রিক বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।