স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
নাটোর: নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
রোববার সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নাটোর জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
হুইপ দুলু বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করেও অনেক চিকিৎসক ও নার্সকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পরও দায়িত্ব পালনে অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনে হাসপাতালটির জনবল, ওষুধ ও পথ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের চিত্রও উঠে আসে। হুইপ জানান, ২০২৩ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো জনবল ও বিভিন্ন বরাদ্দ ১০০ শয্যার হিসাবেই রয়েছে। অথচ পরিদর্শনের দিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০০।
ফলে বরাদ্দের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগীর খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুইপ। রোগীদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় শৌচাগারসহ হাসপাতালের সব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জানান, জনবলসংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সামসুন আরা জানান, হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হলেও বরাদ্দ এখনো ১০০ শয্যার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগী সেবা নেন। সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।